ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক অভিযান চালাতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার ফ্লোরিডায় এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, তারা হয়তো আবারও একটি ছোটখাটো ‘এপিক ফিউরি’ অভিযান চালাতে পারেন। তবে নতুন অভিযান নিয়ে বিস্তারিত কিছু তিনি জানাননি।

এর আগে শুক্রবার ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত যুদ্ধ শেষ করতে পারে। যুদ্ধের লক্ষ্য ও সময়সীমা নিয়ে আগেও একাধিকবার ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন তিনি। সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রচারেও তিনি বলেছেন, যেভাবেই হোক যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হবে।

চলতি মাসে ট্রাম্প বলেছিলেন, আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালাবে না যুক্তরাষ্ট্র। ওই নির্বাচনের মাধ্যমে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে। বর্তমানে কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির সামান্য ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা চালানো হয়। আট মাসের কাছাকাছি পৌঁছানো এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সাংকেতিক নাম ‘এপিক ফিউরি’। ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এমন দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানে এবং লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় হাজারো মানুষ নিহত ও কয়েক লাখ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়েছে। এর প্রভাব মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনেও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে আরও বড় পরিসরে পাল্টা জবাব দেবে ইরান। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের জ্যেষ্ঠ দুই নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নতুন করে ইরানে হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলের সমুদ্রতলের যোগাযোগ লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনা করেছে তেহরান।