জামালপুরের মেলান্দহে বিয়ের ২৩ দিনের মাথায় বিএনপি নেতা সুজন মিয়ার স্ত্রীকে স্বর্ণালংকারসহ ভাগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে মেলান্দহ পৌরসভার বর্জ্যবাহী গাড়ির চালক এমদাদুল হক অরচনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অরচন ও সুজন মিয়ার স্ত্রী সুমি আক্তারকে শুক্রবার বিকেলে আদালতে সোর্পদ করেছে মেলান্দহ থানা পুলিশ।
শুক্রবার ভোর রাতে জামালপুর পৌর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে অরচনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুমিকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার এমদাদুল হক অরচন (৪৫) উপজেলার শাহজাদপুর এলাকার মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে এবং সুমি আক্তারের কথিত মামা হিসেবে পরিচিত। সুমি আক্তার (২৭) কামদেববাড়ী এলাকার শাহিন মন্ডলের মেয়ে। ভুক্তভোগী সুজন ঝাউগড়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং দক্ষিণ ঝাউগড়া এলাকার মৃত ময়ূর আলীর ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১ অক্টোবর সুমি আক্তারের সঙ্গে রেজিস্ট্রি কাবিননামায় সুজনের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় স্ত্রীকে দুটি স্বর্ণের আংটি, একটি চেইন, এক জোড়া বালা ও এক জোড়া কানের দুলসহ বিভিন্ন স্বর্ণালংকার দেন তিনি। এসব অলংকারের আনুমানিক মূল্য ৬ লাখ ৯৬ হাজার ৫০০ টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
সুজনের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই সুমির কথিত মামা অরচন তাকে বিভিন্নভাবে প্ররোচিত করে আসছিলেন। গত ২০ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে সুজন বাড়িতে না থাকার সুযোগে অরচন সেখানে গিয়ে সুমিকে তার বাবার বাড়িতে যাওয়ার কথা বলেন। ওই রাতে স্ত্রীর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ পান সুজন। পরদিন শ্বশুরবাড়িতে খোঁজ করেও সুমিকে পাওয়া যায়নি। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে অরচনের সঙ্গে তার চলে যাওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন বলে দাবি করেন সুজন।
থানায় লিখিত অভিযোগের পর শুক্রবার ভোর রাতে অরচনকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জামালপুর পৌর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে সুমিকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিএনপি নেতা সুজন বলেন, বিয়ের মাত্র ২২ দিনের মাথায় এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, তা তিনি কল্পনাও করেননি। স্বর্ণালংকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন সবকিছু মিলিয়ে তিনি ভেঙে পড়েছেন।
মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এটিএম মাহমুদুল হক জানান, এ ঘটনায় করা মামলায় অরচন ও সুমি আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন