পাবনা ও কুষ্টিয়ায় রেলওয়ের স্থাপনা পরিদর্শনে গিয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ঢাকা মেডিকেল কলেজের গাইনী বিভাগের অধ্যাপক ডা. তাহমিনা হোসেনের উপস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সরকারি সফরে পরিবারের সদস্যকে রাখার বিষয়টি সরকারি সম্পদের অপব্যবহার বলে মনে করছেন রেলের একাধিক কর্মকর্তা।
রেল সচিবের একান্ত সচিব (উপসচিব) শামীমুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ফাহিমুল ইসলাম ২২ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত দুই জেলা সফর করবেন। এ জন্য ঢাকা, পাবনা ও কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপককে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে সড়কপথে ঢাকা থেকে পাকশী রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছান সচিব। তাঁর সঙ্গে সহধর্মিণীসহ আরও কয়েকজন ছিলেন। দুপুরে পাকশীর ভিআইপি রেস্টহাউজে অবস্থান ও খাওয়ার পর বিকেলে তাঁরা রেলওয়ের স্থাপনা এবং হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকা ঘুরে দেখেন। এ সময় সচিবের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীকেও উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।
পরিদর্শনে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক আবু হেনা মোস্তফা আলম, বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, বিভাগীয় প্রকৌশলী (২) নাজিব কায়সার এবং বিভাগীয় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ড্যান্ট রেজওয়ান উর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও নিরাপত্তাকর্মীরা ছিলেন। তবে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ থাকা পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক আহম্মদ হোসেন মাসুম ও একান্ত সচিব শামীমুর রহমানসহ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে সেখানে দেখা যায়নি।
এ প্রসঙ্গে পশ্চিমাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক আহম্মদ হোসেন মাসুম বলেন, সচিব নিজে আলাদাভাবে সবকিছু ঘুরে দেখতে চেয়েছিলেন, তাই তাঁরা সফরে যোগ দেননি। একান্ত সচিব শামীমুর রহমানও একই ধরনের বক্তব্য দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, সরকারি পদমর্যাদা ও সুবিধা ব্যবহার করে দাপ্তরিক সফরের আড়ালে পারিবারিক ভ্রমণ করানো স্পষ্ট অনিয়ম। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম বলেন, তিনি সম্পূর্ণ সরকারি সফরের অংশ হিসেবেই পরিদর্শনে এসেছেন এবং তাঁর দাবি, সরকারি সফরে পরিবারসহ যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

মন্তব্য করুন