শরীয়তপুরে নবাগত পুলিশ সুপার রওনক জাহানের দায়িত্ব গ্রহণ জেলাবাসীর মনে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে যে উন্মুক্ততা, আন্তরিকতা ও সহযোগিতার বার্তা দিয়েছেন—তা প্রশংসার দাবিদার। একজন দায়িত্বশীল পুলিশ সুপার জানেন, নিরাপদ সমাজ গঠন শুধু কঠোরতার ওপর নির্ভর করে না; এর জন্য প্রয়োজন প্রশাসন, গণমাধ্যম ও জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ। রওনক জাহানের পদক্ষেপে এই সমন্বয়ের স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

মাদকের ভয়াবহ বিস্তার, কিশোর অপরাধ, নারী ও শিশু নির্যাতন, সাইবার প্রতারণা এবং সড়ক দুর্ঘটনা—এসবই বর্তমান সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন পুলিশ সুপার দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই এগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা জেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। বিশেষ করে মাদক–বিরোধী কর্মকৌশলে কঠোর অবস্থানের কথাটি জেলাবাসীর আস্থাকে আরও দৃঢ় করেছে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেছেন—“গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ।”
এই বক্তব্য শুধু সৌজন্য নয়; বরং একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনের চিহ্ন। সাংবাদিকদের সম্মান দেওয়া মানে জনগণের তথ্যের অধিকারকে সমুন্নত রাখা। তার এই মনোভাব পুলিশের সঙ্গে গণমাধ্যমের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং অপরাধ দমনে নতুন গতি আনবে।

তার আগের কর্মস্থলগুলোতে রওনক জাহান যে দক্ষতা, সততা ও মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন—শরীয়তপুরেও তার প্রতিফলন দেখা যাবে, এমন প্রত্যাশা সকলের।
জেলা পুলিশকে আরও আধুনিক, জনবান্ধব ও দ্রুতসেবা–নির্ভর করার যে অঙ্গীকার তিনি প্রকাশ করেছেন, তা সত্যিই সময়োপযোগী এবং উৎসাহব্যঞ্জক।

আমরা বিশ্বাস করি—তার নেতৃত্বে মাদকমুক্ত, সহিংসতাহীন ও নিরাপদ শরীয়তপুর গঠনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হবে।
নতুন পুলিশ সুপারের জন্য রইল আমাদের অভিনন্দন ও শুভকামনা। লেখক: শহীদুল ইসলাম পাইলট।

Facebook Comments Box