প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, বিচার বিভাগ সংস্কারের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে, যা সর্বোচ্চ আদালতের নেতৃত্বে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই সংস্কার কার্যক্রমের মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও দক্ষতা আরও সুদৃঢ় হবে।
শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার মিলনায়তনে ইউএনডিপি আয়োজিত ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও দক্ষতা’ শীর্ষক আঞ্চলিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, “বর্তমানে দেশব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ খাতভিত্তিক সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক ঐক্যমত্য তৈরির চেষ্টা চলছে। বিচার বিভাগ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু করেছে, যা সংশ্লিষ্ট কমিশনগুলোর পরামর্শে পরিচালিত হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর সহযোগিতায় পরিচালিত সংস্কার রোডশো ইতোমধ্যে নিজস্ব গতি অর্জন করেছে। দেশের বিভিন্ন জেলা আদালত এবং বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেসি তাদের সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। সুপ্রিম কোর্টের উদ্যোগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজশাহী জেলা ও মেট্রোপলিটন সেশন আদালত, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হেল্পলাইন চালু হয়েছে, যা বিচার বিভাগের ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ।
প্রধান বিচারপতি বিচারকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “জেলা বিচার বিভাগ ও ম্যাজিস্ট্রেসিকে শুধু আইনের ধারক নয়, বরং সংস্কারক ও উদ্ভাবক হিসেবেও ভূমিকা রাখতে হবে। বিচার ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার ও নাগরিকবান্ধব বিচার ব্যবস্থা গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”
তিনি আরও জানান, সুপ্রিম কোর্টের প্রবর্তিত ১২ দফা নির্দেশনার ভিত্তিতে বিচার ব্যবস্থা পুনর্গঠনের কাজ চলছে, যার মূল লক্ষ্য জনগণের জন্য দ্রুত ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করা।
সেমিনারে ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার স্বাগত বক্তব্য রাখেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ফারাহ মাহবুবসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
এছাড়া, বাণিজ্যিক আদালতের রোডম্যাপ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শরিফুল আলম এবং সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন ইউএনডিপির রোমানা শোয়েগার। ময়মনসিংহ, জামালপুর ও নেত্রকোনার বিচারক ও পাবলিক প্রসিকিউটরগণ এই সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন