ইন্টারনেট ‘শাটডাউন’-এর যুগকে চিরতরে অতীত করতে বাংলাদেশে স্টারলিঙ্ক সেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই পরিকল্পনার পেছনের কারণ স্পষ্ট করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। মঙ্গলবার তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি জানান, এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য দেশের ফ্রিল্যান্সার ও তরুণ উদ্যোক্তাদের সুরক্ষা।
শফিকুল আলম উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী শেখ হাসিনা সরকারের ১৬ বছরের শাসনামলে বারবার ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষোভ বা আন্দোলন দমনে এটি ছিল স্বৈরশাসকদের অন্যতম অস্ত্র। ফলে লাখো ফ্রিল্যান্সার ক্ষতির মুখে পড়েছেন, অনেকে হারিয়েছেন চাকরি ও চুক্তি। তিনি বলেন, “স্টারলিঙ্কের আগমনের ফলে ভবিষ্যতে কোনো সরকার আর ইন্টারনেট সম্পূর্ণ বন্ধ করতে পারবে না। এতে বিপিও, কল সেন্টার ও ফ্রিল্যান্সাররা অন্তত সুরক্ষিত থাকবেন।”
এর আগে, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক চিঠিতে ইলন মাস্ককে আগামী ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে বাংলাদেশে স্টারলিঙ্ক চালুর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তাঁকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণও দেওয়া হয়। চিঠিতে ড. ইউনূস বলেন, “এই উন্নত প্রযুক্তি বাংলাদেশের তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। গ্রামীণ নারী ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও এর সুফল পাবে।”
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, “স্টারলিঙ্ক বাংলাদেশের অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হলে যুব উদ্যোক্তা, দুর্বল সম্প্রদায় এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। আসুন, একসঙ্গে কাজ করে একটি উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলি।”
এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে সরকার।

মন্তব্য করুন