বাংলাদেশের বহুল আলোচিত তিস্তা নদী পুনর্বাসন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প দ্রুত এগোচ্ছে চীনের আর্থিক সহায়তায়। প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ৫৫ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ সহায়তার জন্য বেইজিং ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।
সোমবার ঢাকায় পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঙ্গে বৈঠকে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান, খুব শিগগিরই চীনের একটি কারিগরি বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশে এসে মাঠ পর্যায়ে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করবে। রাষ্ট্রদূতের ভাষায়, “তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আমরা ইতিমধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কাজ শুরু করেছি।”
‘কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেস্টোরেশন অব তিস্তা রিভার’ নামের এ প্রকল্পের প্রথম ধাপে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭৫ কোটি ডলার। এর মধ্যে ৫৫ কোটি ডলার আসবে চীনা ঋণ থেকে, বাকিটা সরকারি তহবিল। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৬ সালে কাজ শুরু হয়ে ২০২৯ সালের মধ্যে সমাপ্তি টানা হবে।
তিস্তা প্রকল্পে ভারতের আগ্রহও নতুন নয়। ২০২৩ সালের মে মাসে ঢাকায় সফরকালে ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্রসচিব বিনয় কোয়েত্রা বিনিয়োগ প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও ভারতীয় অর্থায়নের পক্ষে মত দেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অবস্থান অনুযায়ী চীনের সঙ্গে ঋণচুক্তি দ্রুত সইয়ের দিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে তিস্তা নদীর ভাঙন রোধ, সেচব্যবস্থা উন্নয়ন এবং জলজ সম্পদ সংরক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা মিলবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। তবে প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব ও ঋণপরিশোধ সক্ষমতা নিয়ে কিছু অর্থনীতিবিদ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন