জাতীয় পরিচয়পত্রের বড় ধরনের ভুল সংশোধনের আবেদন আর মাঠপর্যায়ের তদন্তে পাঠানো হবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবারের মাসিক সমন্বয় সভায় এই নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে কমিশনের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। লক্ষ্য হলো—তদন্তের অজুহাতে সেবাগ্রহীতাদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি বন্ধ করা।
সভায় ইসির কর্মকর্তারা জানান, অতীতে আবেদনকারীর অনুরোধ বা বিভিন্ন মহলের চাপের কারণে সংশোধন প্রক্রিয়া উপজেলা পর্যায়ে পাঠাতে হতো। অনেক সময় এ সুযোগে একশ্রেণির দালাল তদন্তের নামে অর্থ আদায় করত। এ বিষয়ে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমদ স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে বলেন, “গুরুতর ভুল সংশোধনের ক্ষেত্রে নাগরিককে আর হয়রানি সহ্য করতে হবে না।”
ভবিষ্যতে আবেদনগুলোকে চারটি শ্রেণিতে (‘ক’ থেকে ‘ঘ’) ভাগ করে নির্ধারণ করা হবে কোনটি তাৎক্ষণিকভাবে সংশোধনযোগ্য, কোনটি তদন্তসাপেক্ষ এবং কোনটি একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক হুমায়ুন কবীর জানান, “সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো নাগরিকদের একাধিক জন্মসনদ। দুটি জন্মসনদ পাওয়া গেলে তা নথিবদ্ধ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে, তারপরই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিতে ৪২ হাজার ৬১৮টি ভোটকেন্দ্রের সম্ভাব্য খসড়া তালিকাও প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন নীতিমালা এনআইডি সংশোধনে দীর্ঘসূত্রিতা কমাবে এবং সেবা গ্রহণ সহজ করবে। তবে একাধিক জন্মসনদ সমস্যার সমাধান না হলে জটিলতা কিছুটা থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়ে গেছে।

মন্তব্য করুন