ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ ইউরিয়া সার কারখানায় গ্যাস সংকটের কারণে টানা সাত মাস ধরে ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এতে প্রতিমাসে গড়ে ১৩৫ কোটি টাকার সার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
দেশের অন্যতম বৃহৎ এই কারখানাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, মৌলভীবাজার, চাঁদপুরসহ আটটি জেলায় ইউরিয়া সরবরাহ করে থাকে। তবে চলতি বছরের মার্চ থেকে গ্যাস সরবরাহ না থাকায় উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
কারখানা সূত্র জানায়, গ্যাস সংকটের কারণে গত পাঁচ বছর ধরে বিসিআইসির নির্ধারিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে দেড় লাখ মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে মাত্র ৪৮ হাজার টন। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ টন, কিন্তু উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১৩ হাজার ৫০০ টন।
দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় কারখানার যন্ত্রপাতির কার্যক্ষমতা কমে যাচ্ছে এবং আমদানিনির্ভরতা বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ ও আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের মাধ্যমে কারখানাটি আবারও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে।
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির এক কর্মকর্তা জানান, পেট্রোবাংলা ও বিসিআইসির মধ্যে সমঝোতা অনুযায়ী দেশের তিনটি সার কারখানা চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে আশুগঞ্জ কারখানা চালু হবে কি না, তা নির্ভর করছে বিসিআইসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।
প্রতিদিন গড়ে সাড়ে চার কোটি টাকার ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ থাকায় শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, কৃষিখাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা দ্রুত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন