ঢাকা: জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার পর জুলাই সনদ স্বাক্ষরের মঞ্চে অবস্থান নিয়েছেন ‘জুলাই যোদ্ধারা’। তাঁদের মূল দাবি—সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করা এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া কর্মীদের দায়মুক্তি।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, সকালেই তাঁরা অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করে মঞ্চে অবস্থান নেন। বিকেল ৪টার পর রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে জুলাই সনদে স্বাক্ষর হওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবায়ন আদেশ ও আইনি নিশ্চয়তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সাত মাসব্যাপী সংলাপ শেষে তৈরি হওয়া এই সনদে ৮৪টি প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৪৩টি বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন, আর বাকি ৪১টি কার্যকর হবে অধ্যাদেশ ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে। তবে বাস্তবায়ন আদেশের টেক্সট প্রকাশ না হওয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সই না করার ঘোষণা দিয়েছে। চার বাম দলও জানিয়েছে, নোট অব ডিসেন্ট যুক্ত না হলে তারা সনদে স্বাক্ষর করবে না।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁওয়ে বলেন, “আমরা সংস্কার ইস্যুতে ইতিবাচক। তবে আমাদের প্রস্তাবগুলো লিপিবদ্ধ করতে হবে এবং অঙ্গীকারনামায় নোট অব ডিসেন্ট রাখতে হবে।”

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম শুক্রবার সকালে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “বাস্তবায়ন আদেশের খসড়া জনগণের কাছে প্রকাশ করতে হবে এবং গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় নিশ্চিত করতে হবে। আইনি ভিত্তি ছাড়া সনদে স্বাক্ষর করা অর্থহীন।”

ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “এটি বাংলাদেশের ৫৪ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক। ভিন্নমত থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলো একসঙ্গে কাজ করেছে। এটি পূর্ণাঙ্গ নয়, তবে একটি পথরেখা তৈরি হয়েছে।”

Facebook Comments Box