রাজধানীর উত্তরা-মতিঝিল মেট্রোরেল প্রকল্পে ব্যবহৃত বিয়ারিং প্যাডের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল পাঁচ বছর আগেই। ২০২০ সালে বুয়েটের পরীক্ষায় দেখা যায়, উত্তরা-আগারগাঁও অংশে আমদানি করা একাধিক প্যাড মানোত্তীর্ণ নয়। এ কারণে প্রকল্পের কাজ বিলম্বিত হয় এবং নতুন প্যাড আমদানি করতে হয়।

বিশেষ ধরনের রাবার দিয়ে তৈরি এই বিয়ারিং প্যাড বসানো হয় পিয়ার ও উড়ালপথের সংযোগস্থলে, যা পুরো কাঠামোর স্থায়িত্ব ও ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো সরবরাহ করেছিল ইতাল-থাই ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি। মানহীন প্রমাণিত হওয়ায় প্রকল্পের সময়সূচি পিছিয়ে যায় এবং ব্যয়ও বেড়ে যায়।

বিষয়টি ২০২০ সালের জানুয়ারিতেই একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ ছিল, উত্তরা-আগারগাঁও অংশের প্যাকেজ ৩ ও ৪–এর প্রায় ১২ কিলোমিটার কাজের মধ্যে আট কিলোমিটার উড়ালপথে এসব প্যাড বসানো হলেও অবশিষ্ট অংশে ব্যবহার স্থগিত করা হয়।

সম্প্রতি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের এক সভায়ও বিষয়টি আলোচনায় আসে। বিভাগ জানিয়েছে, বিয়ারিং প্যাড সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রকল্পের অগ্রগতি ব্যাহত হয়েছে এবং বরাদ্দের একটি অংশ অব্যবহৃত রয়েছে। বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) চন্দন কুমার দে জানান, মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের কাছে তারা জানতে চেয়েছেন—কতটি প্যাড পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না। তবে এখনো আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়া যায়নি।

প্রকৌশলীরা বলছেন, বিয়ারিং প্যাড অনেকটা কুশনের মতো কাজ করে। এটি যানবাহনের চাপ সমানভাবে ছড়িয়ে দেয়, ফলে ঝাঁকুনি কম হয় এবং কাঠামো দীর্ঘস্থায়ী থাকে। বুয়েটের ব্যুরো অব রিসার্চ, টেস্টিং অ্যান্ড কনসালট্যান্টস (বিআরটিসি)-এর পরিচালক ড. সামছুল হক সতর্ক করে বলেন, “মানহীন প্যাড ব্যবহৃত হলে কাঠামোগত ত্রুটি দেখা দিতে পারে, চলাচলের সময় ঝাঁকুনি অনুভূত হবে এবং পিয়ারের ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।”

তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, বনানী ফ্লাইওভারের অন্তত ১৮টি স্থানে গাড়ি চলাচলের সময় ঝাঁকুনি অনুভূত হয়, যা বিয়ারিং প্যাড সঠিকভাবে কাজ না করার ফল। একই ধরনের ত্রুটি মেট্রোরেলেও দেখা দিলে ট্রেন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তবে ডিএমটিসিএলের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “বুয়েট কিছু প্যাডকে মানহীন বললেও অন্যান্য পরীক্ষায় সেগুলো মানসম্মত পাওয়া গিয়েছিল। তবুও নিরাপত্তার স্বার্থে সেগুলো পরিবর্তন করা হয়েছে।”

Facebook Comments Box