ঢাকা, ৩ নভেম্বর ২০২৫:
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠার ইঙ্গিত মিলছে। গণভোট, সংসদের উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি এবং প্রতীক নিয়ে সমঝোতার পথে এগোচ্ছে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো। ইতোমধ্যে একাধিক দফায় আলোচনার পর আজ সোমবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠক বসছে, যেখানে সমাধানের রূপরেখা তৈরি হতে পারে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট অনুষ্ঠানে তাদের আপত্তি নেই। দলটি ইতোমধ্যে ‘শাপলা কলি’ প্রতীক বেছে নিয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছে।
সরকারও নির্বাচনী প্রস্তুতিতে গতি এনেছে। রোববার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ৪৮ সেকেন্ডের প্রথম নির্বাচনী টিজারে ক্যাপ্টেন (অব.) ড. খান সুবায়েল বিন রফিক ভোটারদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষণামতে, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবের ওপর গণভোটও নেওয়া হবে। প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠিত হবে পিআর পদ্ধতিতে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা নিয়েও গণভোটে সিদ্ধান্ত হতে পারে।
তবে বিএনপি উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতির বিরোধিতা করছে এবং জামায়াত চাইছে নভেম্বরে গণভোট আয়োজন হোক। এনসিপি কিছুটা নমনীয় অবস্থান নিয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শনিবার বলেন, “১৭ সনদ স্বাক্ষর করেছি, সেটুকু বাস্তবায়ন করব। তবে জুলাই আদেশে যা করা হয়েছে, তার দায় বিএনপি নেবে না।”
সরকারি সূত্র জানায়, সমঝোতার জন্য দুটি প্রস্তাব সামনে রাখা হয়েছে—বিএনপিকে উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতিতে রাজি করানো এবং জামায়াতকে একই দিনে নির্বাচন ও গণভোটে সম্মত করানো। নির্বাচন কমিশনও একই দিনে ভোট আয়োজনের পক্ষে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারের নানা চ্যালেঞ্জ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান হতে পারে।

মন্তব্য করুন