দীর্ঘ তিন মাস বন্ধ থাকার পর ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হওয়ায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের বাজারে সব ধরনের পেঁয়াজের দাম কমেছে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের দাম ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বাজারে প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকা দরে, যা গত সপ্তাহেও ছিল ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। পেঁয়াজের দামের এই নিম্নমুখী ধারায় ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

দেশীয় কৃষকের স্বার্থ বিবেচনা করে সর্বশেষ ৩০ আগস্টের পর থেকে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রাখে সরকার। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশীয় পেঁয়াজের দাম কয়েক দফায় বেড়ে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছালে বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার সীমিত পরিসরে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

সোমবার দুপুরে হিলির বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সবজির দোকানগুলোতে আগের তুলনায় পেঁয়াজের সরবরাহ অনেকটাই বেশি। দাম কমতির দিকে থাকায় বিক্রিও বেড়েছে। বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী বিপ্লব জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ছিল। ১২০ টাকা থেকে ১২৫ টাকায় কিনে ১২৫ টাকা থেকে ১৩০ টাকা দরে বিক্রি করতে হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, সরকার আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরপরই আড়তগুলোতে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করে। পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মনি, আব্দুস ছালামসহ আরও কয়েকজন নিশ্চিত করেন, দুদিন আগেও যে পেঁয়াজ ১২০ টাকায় কেনা হচ্ছিল, সোমবার সেই পেঁয়াজ ৯০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

এক ব্যবসায়ী বলেন, “আজকে সেই পেঁয়াজ আমরা বিক্রি করছি ৯০ টাকা দরে। কারণ আমদানির খবরেই আরতগুলোতে কমেছে পেঁয়াজের দাম। আমরা কম দামে কিনে কম দামে বিক্রি করছি এতে আমাদের বিক্রিও বেড়েছে।”

তবে আমদানির অনুমতি বা ইন্টারনেট প্রোটোকল (আইপি) বিতরণে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। আমদানিকারকরা জানান, সরকার প্রতিদিন ৫০ জন আমদানিকারককে ৩০ মেট্রিক টন করে আইপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আইপি পাওয়ার জন্য অনেকেই সকালে আবেদন করার অপেক্ষায় থাকলেও সার্ভার বন্ধ থাকায় আবেদন করা সম্ভব হয়নি।

হিলি স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ দপ্তরের উপ-সহকারী কর্মকর্তা ইউসুফ আলী জানান, সারা দেশ থেকে প্রতিদিন ৫০ জন আমদানিকারক অনলাইনে আইপি-র জন্য আবেদন করতে পারবেন এবং ৫০ জনের আবেদন শেষ হলে সার্ভার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। প্রত্যেক আবেদনকারী ৩০ মেট্রিক টন করে আইপি পাচ্ছেন। যারা আজ আবেদন করতে পারেননি, তারা পরের দিন সুযোগ পাবেন।

রোববার থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়া শুরু হয়েছে। প্রথম দিন হিলি স্থলবন্দরের চার আমদানিকারক ১২০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি পান। এর মধ্যে একজন আমদানিকারক প্রথম চালান হিসেবে ৩০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করেছেন। এই ৩০ টনের হাত ধরেই দীর্ঘ দামের ভোগান্তির পর সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার হলো।

Facebook Comments Box