আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে শতভাগ প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষ রাখতে নতুন উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন, ঘোষণা এবং উদ্বোধনের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকালে ইসি সচিবালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে এই নির্দেশনার কথা জানানো হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার দিন থেকে চূড়ান্ত ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ পর্যন্ত এই বিধি কার্যকর থাকবে।

সংসদ নির্বাচন আচরণবিধি ২০২৫-এর ৪(৪) বিধি উল্লেখ করে ইসি জানিয়েছে, এই সময়ে সরকারি সুবিধাভোগী কোনো অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি কোনো প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীর অনুকূলে অনুদান ঘোষণা বা অর্থ অবমুক্ত করতে পারবেন না।

নির্বাচনী এলাকায় কোনো প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, ফলক উন্মোচন কিংবা নতুন কোনো প্রকল্পের প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।

এমনকি ইতোপূর্বে অনুমোদিত কোনো প্রকল্পের অর্থ ছাড় করা যদি নিতান্তই আবশ্যক হয়, তবে সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে পূর্বানুমতি গ্রহণ করতে হবে।

কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা যেকোনো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের অফিস, যানবাহন, মোবাইল ফোন বা ওয়াকিটকি কোনো প্রার্থী মাশুল দিয়েও ব্যবহার করতে পারবেন না।

এছাড়া স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে কোনো অবস্থাতেই কোনো প্রার্থীর নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করা যাবে না বলে চিঠিতে সতর্ক করা হয়েছে।

আচরণবিধির ৪(৩) ধারা অনুযায়ী, রাজস্ব বা উন্নয়ন তহবিলভুক্ত কোনো প্রকল্পের ঘোষণা বা উদ্বোধন নির্বাচনী কার্যক্রম সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণ স্থগিত রাখতে হবে।

ইসি সতর্ক করে দিয়েছে যে, এই বিধিমালা লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আচরণ বিধিমালার ২৭ নম্বর বিধি অনুযায়ী কঠোর আইনগত শাস্তির আওতায় আনা হবে।

Facebook Comments Box