ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক মেরুকরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। সব জল্পনা কাটিয়ে আজ রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) আত্মপ্রকাশ করতে পারে জামায়াত-এনসিপি নির্বাচনী জোট। দলের ভেতরে বড় ধরনের আদর্শিক মতভেদ তৈরি হলেও শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচনী কৌশল ও সংস্কারের স্বার্থে এই সমঝোতায় অনড় অবস্থানে রয়েছে।

এনসিপি সূত্র জানিয়েছে, ৮ দলীয় জোটের সঙ্গে এবি পার্টিসহ আরও কয়েকটি নতুন শক্তির সমন্বয়ে এই বৃহত্তর জোট গঠিত হতে যাচ্ছে। সমঝোতা অনুযায়ী এনসিপি অন্তত ৫০টি আসন দাবি করেছে এবং শেষ পর্যন্ত ৪০টি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। জোটের মুখপাত্র হিসেবে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। দলটি ইতোমধ্যে ১২৫ আসনে প্রার্থী দিলেও জোটের ঘোষণার পর বাকিগুলোতে প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তবে এই সমঝোতাকে কেন্দ্র করে এনসিপির ভেতরে তীব্র বিভেদ দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটির ৩০ জন সদস্য জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিরোধিতা করে নাহিদ ইসলামকে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে তারা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন জামায়াতের ভূমিকা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে একে ‘আদর্শিক প্রতারণা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। এর প্রতিবাদে এরই মধ্যে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন।

বিপরীত দিকে, ১৮৪ জন কেন্দ্রীয় নেতা পাল্টা চিঠি দিয়ে নেতৃত্বের প্রতি আস্থা জ্ঞাপন করেছেন। ছাত্র, যুব ও শ্রমিক সংগঠনের বড় অংশটিও জোটের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে। জামায়াত সূত্রে জানা গেছে, তারা প্রায় দেড়শ থেকে দুইশ আসনে নিজস্ব প্রার্থী দেবে এবং বাকি আসনগুলো এনসিপি ও এবি পার্টিসহ মিত্রদের জন্য ছেড়ে দেওয়া হবে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান জানিয়েছেন, ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যেই সব চূড়ান্ত হবে।

Facebook Comments Box