আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইকে কেন্দ্র করে চরম অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখে পড়েছে বিএনপি। সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে দলীয় মনোনয়নের বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থীর হিড়িক পড়েছে। ত্যাগী ও সক্রিয় নেতাদের উপেক্ষা করে ‘সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হাইব্রিড’দের মূল্যায়নের অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা জোট প্রার্থীর বিপক্ষে স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ঢাকা-১২ আসনেও ঘটেছে নাটকীয় পরিবর্তন। সেখানে বিএনপি নেতা সাইফুল আলম নিরবকে সরিয়ে আসনটি বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হককে ছেড়ে দেওয়ায় বিদ্রোহী হিসেবে মাঠে নেমেছেন নিরব। নোয়াখালী-৫ আসনে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসীমউদ্দিন মওদুদও স্বতন্ত্র লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন।
ময়মনসিংহ বিভাগের ১১টি আসনেই বিএনপির বিদ্রোহীরা সক্রিয়। হালুয়াঘাট, গৌরীপুর থেকে শুরু করে গফরগাঁও ও ভালুকায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের দাপটে হিমশিম খাচ্ছে দলটি। এছাড়া কুড়িগ্রাম, যশোর, কুমিল্লা, ঝালকাঠি ও মুন্সীগঞ্জের মতো জেলাগুলোতেও সিনিয়র নেতারা দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। পটুয়াখালী-৩ আসনে নুরুল হক নুরের জোটগত অবস্থানের বিপরীতে স্বতন্ত্র লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির হাসান মামুন।
বঞ্চিত নেতাদের দাবি, বিগত দিনের রাজপথের আন্দোলন ও জনপ্রিয়তাকে তোয়াক্কা না করে বিশেষ বলয়ের স্বার্থ রক্ষায় বিতর্কিতদের ধানের শীষের টিকিট দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কিছু আসনে প্রার্থী পরিবর্তন করেও সন্তোষজনক ফলাফল পাচ্ছে না দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়। বিদ্রোহ প্রশমিত না হলে আসন্ন নির্বাচনে এর বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

মন্তব্য করুন