শীতের প্রকোপ বাড়ার আগেই ঢাকার বায়ুমান ‘অস্বাস্থ্যকর’ থেকে ‘বিপজ্জনক’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে বাতাসে পিএম ২.৫ বা অতি ক্ষুদ্র বিষাক্ত কণার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় শিশুদের ফুসফুস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে বর্তমানে শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতা নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) সরেজমিনে দেখা যায়, মাসুম শিশু আয়মানসহ অসংখ্য শিশু জন্মলগ্ন থেকেই বিষাক্ত বায়ুর সংস্পর্শে এসে নিউমোনিয়া ও দীর্ঘমেয়াদী শ্বাসকষ্টের সঙ্গে লড়াই করছে। চিকিৎসকদের মতে, ঢাকার বাতাসে কুয়াশার চেয়ে ধুলোবালির আস্তরণ এখন বেশি শক্তিশালী। নতুন বছর ২০২৬-এর শুরু থেকেই ঢাকার একিউআই (AQI) স্কোর ২০০-এর ওপরে অবস্থান করছে, যা বৈশ্বিকভাবে অন্যতম নিকৃষ্ট।
বায়ুমণ্ডল দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) তথ্যমতে, গত এক দশকে ঢাকা হাতেগোনা মাত্র কয়েকদিন নির্মল বাতাস পেয়েছে। বর্তমানে রাস্তায় ফিটনেসবিহীন যানবাহনের কালো ধোঁয়া এবং অপরিকল্পিত নির্মাণ কাজের ধুলোবালি এই সংকটকে ঘনীভূত করছে। এছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের দাবি অনুযায়ী, ভারতের হরিয়ানা ও পাঞ্জাব অঞ্চল থেকে আসা দূষিত বাতাসও বাংলাদেশের বায়ুমানকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে।
অধ্যাপক লুনা পারভীন জানান, বংশগত কারণ ছাড়াই এখন অনেক শিশু নতুন করে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হচ্ছে। ধুলোর কারণে তাদের শ্বাসনালী সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে এবং সাধারণ চিকিৎসায় তারা সহজে সুস্থ হচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল আন্তঃসীমান্ত দূষণকে দায়ী করে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। স্থানীয় পর্যায়ে ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ, ফিটনেসবিহীন যান চলাচল বন্ধ এবং ধুলো নিয়ন্ত্রণে সিটি কর্পোরেশনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় রাজধানী এখন শিশুদের জন্য বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে।

মন্তব্য করুন