আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতার প্রধান দাবিদার হিসেবে দীর্ঘদিনের মিত্র বিএনপিকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পাল্টে যাওয়া রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জামায়াত এখন দেশটির অন্যতম শক্তিশালী ফ্রন্টরানার।

আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা আইআরআই এবং দেশীয় কয়েকটি সংস্থার সাম্প্রতিক তথ্য উল্লেখ করে প্রতিবেদনে জানানো হয়, মাঠপর্যায়ে বিএনপি ও জামায়াতের জনপ্রিয়তার ব্যবধান এখন প্রায় শূন্যের কোঠায়। আইআরআই-এর ডিসেম্বরের জরিপে বিএনপির সমর্থন ৩৩ শতাংশ এবং জামায়াতের ২৯ শতাংশ দেখা গেলেও, জানুয়ারি মাসের নতুন যৌথ জরিপে বিএনপি ৩৪.৭ শতাংশ এবং জামায়াত ৩৩.৬ শতাংশ জনপ্রিয়তা নিয়ে একে অপরের ‘ঘাড়ের ওপর নিঃশ্বাস’ ফেলছে।

আল জাজিরা বলছে, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবারের নির্বাচন মূলত একটি দ্বিমুখী লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। একদিকে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি নিজেকে লিবারেল-ডেমোক্রেটিক শক্তি হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে জামায়াত, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও অন্যান্য ইসলামি দলগুলোকে নিয়ে একটি ‘১০ দলীয় নির্বাচনী জোট’ গঠন করে নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, জামায়াত এবার নিজেদের ‘মধ্যপন্থী ইসলামি শক্তি’ হিসেবে ব্র্যান্ডিং করছে। যার অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো খুলনায় কৃষ্ণ নন্দী নামের একজন হিন্দু প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে অমুসলিম ভোটারদের কাছে টানার কৌশল নিয়েছে দলটি। তবে থমাস কিনের মতো বিশ্লেষকদের বরাতে আল জাজিরা সতর্ক করেছে যে, জামায়াত ক্ষমতায় এলে ভারতের সঙ্গে দিল্লির আদর্শিক সংঘাত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বিপরীতে, আগস্টের পটপরিবর্তনের পর পাকিস্তানের সঙ্গে বাড়তে থাকা কূটনৈতিক উষ্ণতা জামায়াতের জন্য সহায়ক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রায় দুই কোটি সমর্থক ও আড়াই লাখ রুকন সমৃদ্ধ জামায়াতের জন্য আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট কেবল সরকার গঠন নয়, বরং তাদের জাতীয় গ্রহণযোগ্যতার এক কঠিন ‘অ্যাসিড টেস্ট’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

Facebook Comments Box