ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সমীকরণ মেলাতে ভোটের মাঠে সক্রিয় দলগুলোর বড় টার্গেট এখন মাঠের বাইরে থাকা আওয়ামী লীগের বিশাল কর্মী-সমর্থক গোষ্ঠী। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাস্তবতায় দল নিষিদ্ধ হওয়ায় সরাসরি ভোটে নেই আওয়ামী লীগ। তবে টিকে থাকার কৌশল এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতের তাগিদে দলটির তৃণমূল ভোটাররা মাঠের বড় শক্তি বিএনপির দিকেই বেশি ঝুঁকছেন বলে বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আওয়ামী লীগের পুরনো আদর্শিক দ্বন্দ্ব এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের গঠিত এনসিপির প্রতি তীব্র ক্ষোভ এই ভোটারদের বিএনপির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। গত মে মাসে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ার সময় বিএনপির নীরবতা এবং দল নিষিদ্ধের বিপক্ষে তারেক রহমানের নীতিগত অবস্থান দলটির সমর্থকদের মধ্যে এক ধরনের আস্থার জায়গা তৈরি করেছে। এছাড়া রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইস্যুতেও বিএনপির অবস্থান আওয়ামী সমর্থকদের কাছে তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক মনে হয়েছে।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন জনমত জরিপও এই ধারার পক্ষেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্টের (ইএএসডি) জরিপ বলছে, আওয়ামী সমর্থকদের মধ্যে যারা ভোট দেবেন, তাদের প্রায় ৮০ শতাংশই বিএনপিকে বেছে নিতে পারেন। অন্যদিকে সিআরএফ-এর জরিপ অনুযায়ী, সাবেক আওয়ামী ভোটারদের প্রায় ৪৮ শতাংশ এখন বিএনপির পক্ষে।

মাঠ পর্যায়ের চিত্রে দেখা গেছে, রাজশাহী, সাভার ও সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের সাবেক জনপ্রতিনিধি ও নেতারা প্রকাশ্যে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে জামায়াত ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষেও কিছু নেতাকর্মীর সক্রিয়তা পরিলক্ষিত হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান কালবেলাকে বলেন, ‘আদর্শিক লড়াইয়ের কারণেই আওয়ামী সমর্থকরা জামায়াতের চেয়ে মধ্যপন্থী বিএনপিকে অধিকতর পছন্দ করবে।’

যদিও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে ‘নৌকাহীন ভোটে না যাওয়ার’ আহ্বান জানানো হচ্ছে, তবে স্থানীয় বাস্তবতা ও অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে তৃণমূলের একটি বড় অংশ ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ফলাফল নির্ধারণে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে।

Facebook Comments Box