শনিবার, ১০ই ডিসেম্বর, ২০২২ ইং, ২৫শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৫ই জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরী
শনিবার, ১০ই ডিসেম্বর, ২০২২ ইং

শরীয়তপুরে গৃহবধু মধু হত্যার বাদীকে জীবন নাশের হুমকি

শরীয়তপুরে গৃহবধু মধু হত্যার বাদীকে জীবন নাশের হুমকি

একজন বাংলার বধু হতে চেয়েছিল মধু। তাই যৌতুকের দাবীতে নির্যাতন ও নিপিড়ণ সহ্য করা ছিল খাদিজা আক্তার (মধুর) নিত্যদিনের কাজ। প্রতিদিনই স্বামী, শ্বশুর-শ্বাশুড়ি, ভাসুর ও জা’দের দ্বারা কোন না কোন ভাবে যৌতুকের দাবীতে নির্যাতিত হত মধু। স্বামীর পরিবারের দাবী পূরণ করতে না পারায় জীবন গেল ২০ বছর বয়সী মেয়েটির। অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করেও শেষ রক্ষা হলনা মধুর। মধুর বাংলার বধু হওয়ার স্বপ্ন মৃত্যুর সাথে মিলে গেল নিমিশেই। অমানুষিক নির্যাতন করে ও নির্মম ভাবে স্বামী-শ্বশুর পরিবার মধুকে হত্যা করে।
মধুর পরিবার সূত্র জানায়, মধু সদর উপজেলার চর চটাং গ্রামের গোলাম মাওলা কাজীর প্রথাম স্ত্রী আমেনা বেগমের মেয়ে। দ্বিতীয় বিয়ে করে গোলাম মাওলা কাজী প্রথম স্ত্রীর কোন খোঁজ খবর নিতেন না। জীবন বাঁচানোর তাগিদেই আমেনা বেগম ৩ সন্তান (২ মেয়ে ও ১ ছেলে) নিয়ে শরীয়তপুর পৌরসভার শান্তি নগর এলাকায় বাসা-বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করত। ছেলে শাহিন যখন রাজমিস্ত্রীর সাথে হেল্পারের কাজ করতে পারে তখন ঝিয়ের কাজ ছেড়ে দেয় আমেনা। ভাইদের কাছ থকে একটু জমি চেয়ে মাথা গোজার ঠাই করে পুনরায় চর চরটাং গ্রামে আমেনা ফিরে আসে।
গত ১ বছর পূর্বে দক্ষিণ ভাষানচর গ্রামের ছমেদ মৃধার ছেলে এবাদুল হক মৃধার সাথে মধুর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী এবাদুল, শ্বশুর ছমেদ মৃধা, ভাসুর শাহ আলম মৃধা, দ্বীন ইসলাম মৃধা, সাইদুল মৃধা, শ্বাশুড়ি রিজিয়া বেগম, জা রুজিনা বেগম মধুর মাধ্যমে পরিবারের কাছে যৌতুক দাবী করে আসছিল। মধুতো মায়ের অস্বচ্ছলতা ও সংসারের অবস্থা জানত। মায়ের পক্ষে যৌতুক দেয়ার উপায় না থাকায় সকল নির্যাতনের কথা মায়ের কাছে বলতো না মধু। মা সন্তানের বিপদ-আপদের পূর্বাভাস বুঝতে পারতো। মাঝে মধ্যে বেড়াতে আসলে মধুকে স্বামীর সংসারে যেতে নিষেদ করতেন মা। মধুও মায়ের কথা শুনে স্বামীর সংসারে যেতে চাইত না। পরবর্তীতে শ্বশুর-শ্বাশুরি এসে আর নির্যাতন করবে না মর্মে আশ্বস্ত করে মধুকে নিয়ে যেত। এবারও নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে শ্বশুর বাড়ি থেকে মধু মায়ের কাছে চলে আসে। স্বামী এবাদুলও এসে মধুর সাথে ১৫ দিন থেকে মধুকে ১৪ মে তাদের বাড়ি নিয়ে যায়। ১৫ মে তারিখের সন্ধ্যা থেকে রাত ৩ টার মধ্যে অমানুষিক নির্যাতন করে পরিকল্পিত ভাবে মধুকে হত্যা করে। হত্যা পরবর্তী বসত বাড়ির সকল আসবাবপত্র ও গরু-ছাগল নিয়ে মধুর ঘাতক স্বামী, শ্বশুর-শ্বাশুড়ি, ভাসুর-জা সহ সকলে পালিয়ে যায়। ঘটনার ১ মাস পরে ঘাতক স্বামী পুলিশের হাতে ধরা পরে হাজতে আছে। অন্যান ঘাতক আসামীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।
মামলার বাদী মধুর মা আমেনা বেগম, ভাই শাহিন, প্রতিবেশী ইলিয়াস মোল্যা সহ এলাকাবাসী দাবী, মধু খুব ভাল মেয়ে ছিল। বাংগালি মেয়ে স্বামীর পরিচয়ে বাঁচতে চায়। মধুর একজন বাংলার বধু হয়ে বাঁচতে চেয়েছিল। তাই স্বামীর পরিবারের সকল নির্যাতন মুখ বুজে সহ্য করত। বিয়ের পর পরই মধু গর্ভবতি হয়। কৌশলে শ্বশুর ছমেদ মৃধা মধুকে ওষুধ খাইয়ে গর্ভপাত ঘটায়। এবারের হত্যাকান্ডও পরিকল্পিত। মামলার প্রধান আসামী ধরা পড়েছে। অন্যান্য আসামীগণ মাঝেমধ্যে এলাকায় অবস্থান করে। বাদী ও তার একমাত্র ছেলে শাহিনকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে আসামীরা। পরিবার ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আসামীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা ও মধু হত্যার ন্যায় বিচার কামনা করা হচ্ছে।
মামরা তদন্ত অফিসার পালং মডেল থানার ওসি তদন্ত আশরাফুল ইসলাম বলেন, ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। মামলার প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামীরা পলাতক রয়েছে। আসামীদের অবস্থান নিশ্চিত করা গেলে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে। মামলার তদন্ত কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।


error: Content is protected !!