শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া ইউনিয়নের ৫০ নং কেচুয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের ভিতর ওয়াশব্লক নির্মাণ কাজ বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীরা। বুধবার বিকেলে বিদ্যালয় মাঠে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। এসময় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ কেচুয়ারচর এলাকার শতাধিক লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে বক্তৃতা বলেন, কেচুয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠটি একেবারে সংকীর্ণ। বিদ্যালয়ের মাঠটিতে কোমলমতি শিক্ষার্থী ও এলাকার ছেলে-মেয়েরা প্রতিনিয়ত খেলাধুলা করে। এছাড়া বিকল্প মাঠ না থাকায় এলাকার ধর্মীয় অনুষ্ঠানসহ মৃত ব্যাক্তিদের জানাজার নামাজ পড়ানো হয় বিদ্যালয়ের মাঠটিতে। সেই মাঠের ভিতর থাকা বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারটি ভেঙে ফেলে করা হচ্ছে ওয়াশ ব্লক। এমতাবস্থায় ওয়াশব্লকটি মাঠের দক্ষিণ পাশে করার দাবি এলাকাবাসীর। এ ঘটনায় গত ২০ অক্টোবর গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর এলাকাবাসী একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মানববন্ধনে বায়েজিত, তাকিয়াসহ শিক্ষার্থী বলে, আমরা আগে আমাদের বিদ্যালয়ের সামনের মাঠে খেলাধুলা করতাম। এখন খেলতে পারি না। মাঠের ভিতর ওয়াশ ব্লক নির্মাণ করছে। আমরা চাই পুরোনো টয়লেট ভেঙে সেখানে ওয়াশ ব্লকটা করা হোক।
কেচুয়ারচর এলাকার তরুন মেহেদী হাসান, জুবায়ের ইসলাম দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, আমরা ৫০ নং কেচুয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আজ মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছি এটার কারণ হচ্ছে, লেখাপড়ার পাশাপাশি একটি খেলাধুলার জন্য একটি মাঠ প্রয়োজন। কিন্ত পর্যাপ্ত যায়গা ও পুরোনো একটি টয়লেট থাকা সত্ত্বেও বাচ্চাদের খেলার মাঠ খনন করে একটি মহল এখানে ওয়াশ ব্লক নির্মাণ করছে। আমাদের দাবি পুরোনো টয়লেট ভেঙে ওয়াশ ব্লকটা করা হোক। তাতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ এলাকার ছেলেমেয়েদের খেলার মাঠটি রক্ষা পাবে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের পরিবেশটা সুন্দর থাকবে।
তারা আরও বলেন, আমরা যতটুকু জেনেছি মাঠের ভিতর ওয়াশ ব্লকটি করলে ঠিকাদার অধিক লাববান হবেন। আর অন্য যায়গায় করলে লাভবান কম হবেন। এজন্য ঠিকাদার জোর করে মাঠের ভিতর ওয়াশ ব্লক করছে।
আবু হানিফ মাদবর, মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনসহ কেচুয়ারচর এলাকার দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, আমাদের কেচুয়ারচরে বড় কোন মাঠ নেই। এই বিদ্যালয়ের মাঠেই ধর্মীয় অনুষ্ঠানসহ মৃত ব্যাক্তিদের জানাজার নামাজ পড়ানো হয়। স্কুলের মাঠ গর্ত করে, শহিদ মিনারটি ভেঙে ওয়াশ ব্লক নির্মাণ হচ্ছে। আমরা বাধা দিলেও ঠিকাদাররা মানছেন না। আমরা চাই মাঠটি বাঁচিয়ে রাখা হোক। যেখানে ওয়াশ ব্লক করলে মাঠটি নষ্ট হবে না, সেখানে করা হোক।
প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুন্নী আক্তার বলেন, উর্ধতন কর্মকর্তারা রয়েছেন তারাই সিদ্ধান্ত নিবেন ওয়াশ ব্লক কোথায় হবে। এ সম্পর্কে আমরা কিছু জানি না।
তবে, এবিষয়ে বক্তব্যের জন্য ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে তাকে পাওয়া যায়নি।
গোসাইরহাট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমান দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, বিদ্যালয়ের জমি অনেকেই দখল করে আছে। তাদের ডেকে জমি ছাড়তে বলেছি, কিন্ত তারা তা মানছেন না। এটা নিয়ে অনেক শালিস দরবারও হয়েছে। তারা জমি দখল করে বাড়িঘর করে থাকছেন। তাই ওয়াশ ব্লকটি মাঠের পাশে করা সম্ভব হয়নি।

Facebook Comments Box