শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলায় ১৩৷ নভেম্বর বুধবার সকাল ১১ টায় সখিপুরের এলাকায় প্রকৃতিতে বইছে শীতের আগাম বার্তা। চলছে এলাকার গাছিদের মাঝে খেজুরের রস্ সংগ্রহের জন্য প্রস্তুতি। খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য গাছের আগায় বিশেষ পদ্ধতিতে চলছে কাটা কুটির আয়োজন। ইতোমধ্যেই রস্ সংগ্রহ প্রক্রিয়া প্রায় শেষ, এখন শুধু বেশি শীতের অপেক্ষা। বেশী শীত মানেই অধিক পরিমাণ রস সংগ্রহ এবং গাছিদের মুখে হাসি ও তার পরিশ্রমের ফল পাবে।
ক দিন পরই গাছে লাগানো হবে, বাঁশের নাল ও মাটির হাড়ি। তাতে সংগ্রহ করা হবে রস। তা দিয়ে তৈরি হবে খেজুরের গুড় ও পাটালি পায়েস, । শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলাসহ বেশির ভাগ গ্রামে চোখে পড়ে খেজুর গাছ। রস সংগ্রহের জন্য গাছিরা এখন খেজুর গাছের আগা ঝোড়া, চাঁছাছোলা ও নলি মারায় ব্যস্ত। শীত মৌসুমের পুরো চার মাস তারা বাড়িতে টাটকা রস বিক্রি, ও খেজুরের গুড় ও পাটালি তৈরি করেন। ওই সময় তাদের প্রতিদিন আয় হয় দুই থেকে তিন হাজার টাকা।
স্থানীয় এক গাছি সাইফুল ইসলাম রাড়ী, তিনি প্রায় ৩৫ বছর যাবৎ এই কাজ করে আসছেন। তিনি জানান খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য বিশেষ পদ্ধতিতে গাছের আগা কাটা হয়। আগা কাটা শ্রমিকও পাওয়া যায় গ্রামে। ৪০০ টাকা মজুরি নিয়ে তারা গাছ কাটেন সকাল ১১টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত শীত মৌসুমে গ্রামের গাছিদের খেজুর গাছ কেটে সংসার চলে অনেকের। শীত মৌসুমে ব্যাপারিরা স্থানীয় বাজারের হাটে খেজুরের রস ও গুর ক্রয়ের জন্য আসেন। তারা এসব হাট থেকে কাচা রস খেজুরের গুড় ও পাটালি কিনে সারাদেশে সরবরাহ করেন। অনেকে দেশের বাইরেও পাঠান। এ জেলার খেজুরের গুড়ের সুনাম দেশজুড়ে। শীতের মৌসুমে এ এলাকার গাছিরা খেজুর গাছ থেকে বাড়তি আয় করে থাকেন।

মন্তব্য করুন