শরীয়তপুরের সখিপুর থানার ছৈয়াল কান্দি গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে সোহাগ মিয়ার বিরুদ্ধে। মামলার বাদী সোহাগ মিয়া ও আসামি মতিন রাড়ী সম্পর্কে আপন চাচা ভাতিজা হয়।
মামলা সুত্রে জানা যায়, গত ২২ডিসেম্বর রবিবার বিকেলে সখিপুর বাজারের ডাক বাংলো এলাকায় আসামি মতিন রাড়ী, পারভীন বেগম, ফরিদ রাড়ী,আরিফ রাড়ী, ইয়াছিন রাড়ী ও তানজিলা বেগম বাদী সোহাগ মিয়া ও তার স্ত্রী শাকিলা আক্তারকে মারধর করে সাথে থাকা টাকাপয়সা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। সেই মামলায় উল্লেখ করা হয় আসামিরা বাদি কুপিয়ে আহত করে সাথে থাকা সাড়ে চার লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে বাদিকে হুমকি-ধামকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। এরপর গত ২৪ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সোহাগ মিয়া বাদি হয়ে শরীয়তপুর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে ছয়জন কে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকে আসামিরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। আসামিরা সবাই দরিদ্র। থানা-পুলিশের ভয়ে তাঁরা স্বাভাবিকভাবে কাজকর্ম করতে পারছেন না।
ভুক্তভোগী মতিন রাড়ী দৈনিক রুদ্রবার্তাকে জানান, মামলার বাদী সোহাগ মিয়ার সাথে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসসিলো। তারই জের ধরে মারামারি ও ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের পরিবারের সবাইকে আসামি করে মামলা দায়ের করে। প্রকৃতপক্ষে এই ঘটনার সঙ্গে আমি বা আমাদের পরিবারের কেউ জড়িত নয়। আমাদেরকে ফাঁসানোর জন্য আমার ভাতিজা সোহাগ মিয়া আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। আমি এই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই সাজানো মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি চাই।
মামলায় উল্লেখিত ঘটনা স্থলের পাশে থকা স্থানীয় মোয়াজ্জেম সরকার নামে একজন দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, মারধরের কোনো ঘটনাই এখানে ঘটেনি। ঘটনা যেদিন উল্লেখ করা হয়েছে সেইদিন কিংবা তার আগে পরে এখানে এই ধরনের ঘটনা আমরা শুনিনি।
তৃতীয় লিঙ্গের সখিপুর থানার সরদার ইসমাইল হোসেন তানিসা বলেন, যেখানে ঘটনা দেখানো হয়েছে আমার বাড়ী পাশেই। সেইদিন সেখানে কোনো মারামারি কিংবা কোনরকম ঘটনা হয় নি। আমি ওইদিন সারাক্ষণ বাড়ীতেই ছিলাম। যদি এমন কোনো মারামারির ঘটনা ঘটতো তাহলে আমি শুনতাম।
এ ব্যাপারে মন্তব্যর জন্য মামলার বাদী সোহাগ মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায়নি। এবং তার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন টি রিসিভ করেন নি।
এ বিষয়ে সখিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুল হক দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, এবিষয়ে আমার জানা নেই। আদালতে নির্দেশে পেলে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

মন্তব্য করুন