শরীয়তপুর জেলা আদালতে স্থাপনার অভাবের কারণে মামলার জট ক্রমশ বাড়ছে। বিচারকসংখ্যা বাড়লেও প্রয়োজনীয় এজলাসের অভাবে স্বাভাবিক বিচারিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বিচারপ্রার্থীসহ আইনজীবী ও আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতিদিনই নানা দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আদালতের মামলার নথিপত্র জমতে জমতে জায়গার সংকট এতটাই তীব্র হয়েছে যে, অনেক ফাইল টেবিলের নিচে ও মেঝেতে রাখার উপক্রম হয়েছে। বিচারক, স্টাফ ও আইনজীবীদের বসার জায়গা পর্যাপ্ত না থাকায় অস্বস্তিকর পরিবেশে গাদাগাদি করে কাজ করতে হচ্ছে।
জেলার বিচারকসংখ্যা বর্তমানে ২৩ জন হলেও কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এজলাস রয়েছে মাত্র ১৫টি। এ কারণে একটি এজলাস ভাগাভাগি করে দুই থেকে তিনজন বিচারককে মামলার শুনানি পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে করে বিচার কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রিতা বাড়ছে, ফলে বিচারপ্রার্থীদের অপেক্ষার সময়ও দীর্ঘ হচ্ছে।
জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বাইরে তিনটি টিনশেড ভবন ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দুটি কক্ষকে অস্থায়ী এজলাস হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে নিরাপত্তাহীনতার পাশাপাশি নারী ও শিশু সংক্রান্ত মামলাগুলোও যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
আইনজীবী ও তাদের সহকারীদের জন্য নেই কোনো নির্দিষ্ট বসার জায়গা। আদালতের নাজির শাখায় ছোট একটি কক্ষে ১৮ জন কর্মী গাদাগাদি করে কাজ করছেন।
একজন আইনজীবী দৈনিক রুদ্রবার্তাকে জানান, “পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে বিচারকাজ স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। বিচারপ্রার্থীরা দিনের পর দিন অপেক্ষা করেও ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না।”
আদালতে আসা বিচারপ্রার্থী মোতালেব বেপারী দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, “আমাদের মামলা পাঁচ বছর ধরে চলছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আদালতে অপেক্ষা করতে হয়, তবু শুনানি হয় না। যদি পর্যাপ্ত এজলাস থাকত, তাহলে এত ভোগান্তি হতো না।”
একজন নারী আইনজীবী দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, “জায়গার অভাবে কক্ষের ভেতরে ও বাইরে মুহুরি, আইনজীবী, আসামি, বিচারপ্রার্থী— সবাই দাঁড়িয়ে থাকেন। নারীদের পক্ষে এমন পরিস্থিতিতে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে।”
শরীয়তপুর আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট হানিফ মিয়া দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, “সারা দেশের ৬৩টি জেলায় বিচারিক ভবন থাকলেও আমাদের জেলায় এখনো নেই। ফলে বিচারক ও আদালতের স্টাফরা সংকটের মধ্যে কাজ করছেন। জরাজীর্ণ ভবনে বিচারকাজ পরিচালনা করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।”
গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সফিকুল ইসলাম দৈনিক রুদ্রবার্তাকে জানিয়েছেন, নতুন আদালত ভবনের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে এবং ডিজিটাল সার্ভে ও সয়েল টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। তবে প্রকল্প অনুমোদন না হওয়ায় কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।
জেলা আদালতের এই সংকট সমাধানে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিলে মামলার দীর্ঘসূত্রিতা কমিয়ে বিচার ব্যবস্থার গতি বাড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সবাই।

মন্তব্য করুন