শরীয়তপুর পৌরসভার স্বর্ণঘোষ এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বিএনপির কর্মীর বাড়িতে
হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার দিনগত রাত ১০ টার দিকে পৌরসভার স্বর্ণঘোষ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ও থানায় লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার স্বর্ণঘোষ এলাকার বিএনপি কর্মী রফিক সরদারের সাথে সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা রশিদ সরদারের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিনের। আওয়ামী লীগের সরকার থাকাকালীন রশিদ সরদার জোরপূর্বক রফিক সরদারের পৈতৃক সম্পত্তি জোর করে দখলে নেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের। সে বিরোধকে কেন্দ্র করে গতকাল সোমবার দিনগত রাতে রশিদ সরদার ও তার লোকজন দেশীয় অস্ত্রসহ সজ্জিত হয়ে রফিক সরদারের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা রফিক সরদারকে পিটিয়ে জখম করে এবং তার স্ত্রী রুমাকে মাথায় আঘাত করা হয়। এছাড়াও হামলাকারীরা স্বর্ণের চেইন, নগদ ৫৫ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় রফিক সরদারের স্ত্রী রুমা বাদী হয়ে মঙ্গলবার দুপুরে পালং মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

ভুক্তভোগী রফিক সরদার বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে রশিদ সরদার জোরপূর্বক আমাদের জায়গা দখলে নেয়। আমি বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত বলে তখন আমার কিছু করার ছিলো না। কয়েকদিন আগে আমি আমার সম্পত্তি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেই। এজন্য রশিদ সরদার ও তার লোকজন আমার পরিবারের উপর হামলা চালায়। আমার স্ত্রী এতে গুরুতর আহত হয়েছে। আমার ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে সব লুটপাট করে নিয়েছে। এখনও যদি আমরা বিএনপির লোকজন হামলার শিকার হই, তাহলে কোথায় যাবো। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।

রফিক সরদারের স্ত্রী রুমা বলেন, গতকাল রাত ১০ টার দিকে আমি আর আমার স্বামী বাসায় ছিলাম। হঠাৎ বাইরে চেচামেচির আওয়াজ পেয়ে বের হয়। তখন রশিদ সরদার ও তার লোকজন আমাদের ও আমাদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে লুটপাট করে নিয়ে যায়। আমি কানে ও হাতে আঘাত পেয়েছি। দোষীদের বিচার দাবী করছি।

জানতে চাইলে সাবেক কাউন্সিলর রশিদ সরদার বলেন, আমি কাউন্সিলর থাকা অবস্থায় কখনও ক্ষমতায় উপব্যবহার করেনি। এখন যেহেতু আমি কাউন্সিলর নেই, তাই ক্ষমতার অপব্যবহার করার প্রশ্ন উঠেনা। এটি আমাদের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ। রফিক সরদার নিজেরাই বাড়ি ভাঙচুর করে আমাদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। তারা খারাপ প্রকৃতির লোক।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন বলেন, এখন পর্যন্ত আমার কাছে লিখিত অভিযোগ আসেনি। আসলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Facebook Comments Box