শুক্রবার, ১২ই আগস্ট, ২০২২ ইং, ২৮শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৪ই মুহাররম, ১৪৪৪ হিজরী
শুক্রবার, ১২ই আগস্ট, ২০২২ ইং

শরীয়তপুরে পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেসী কনফারেন্স মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

শরীয়তপুরে পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেসী কনফারেন্স মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

প্রত্যেক ডিপার্টমেন্ট তাদের স্ব স্ব দায়িত্ব সম্বন্ধে আন্তরিক হলে মানুষ তাদের সুবিচার নিশ্চিত করতে পারবে। আমরা যারা আইনের সাথে সংশ্লিষ্ট, তারা অবশ্যই এ ব্যাপারে লক্ষ্য রাখবো। শরীয়তপুরে পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেসী কনফারেন্স’র মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শরীয়তপুর জেলার সুযোগ্য বিচারক জেলা ও দায়রা জজ প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠান সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হেদায়েত উল্যাহ’র সঞ্চালনায় কনফারেন্স অনুষ্ঠানের সভাপতি ভারপ্রাপ্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, কোথাও যদি কেউ ন্যায় বিচারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করি তাহলে পুরো বাংলাদেশকে প্যারালাইজড করছি। স্বাধীন বিচার ব্যবস্থায় মানুষ যেন ন্যায় বিচার পায় তাই আমাদের একমাত্র চাওয়া। পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেসীর সমন্বয়ের মাধ্যমে শরীয়তপুরবাসী যেন ন্যায় বিচার পায় সেই বিষয়টি আমরা নিশ্চিত করব। আমরা সবাই জানি মানুষের জন্যই আইন। মানুষের প্রয়োজনে মানুষই আইন সৃষ্টি করেছে। আমাদের সমন্বয়ের মাধ্যমেই যেন আইনের ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৫ জুন শনিবার সকাল ১০টায় জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনে পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেসী কনফারেন্স ২০১৯ এ উপস্থিত ছিলেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সুযোগ্য বিচারক আ. সালাম খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া সার্কেল) কামরুল হাসান, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট আবু সাঈদ, পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট মির্জা হজরত আলী, সিভিল সার্জন প্রতিনিধি ডা. আব্দুস সোবাহান সহ সকল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ, কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক, সিআইডি পরিদর্শক, গোয়েন্দা বিভাগের পরিদর্শক ও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ।
কনফারেন্সে সমন জারী, গ্রেফতারী, হুলিয়া ও ক্রোকি পরোয়ানা তামিল, ইনকোয়ারী বা তদন্তের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ, সময়মত মেডিকেল সনদ, ময়না তদন্ত প্রতিবেদন, ফরেনসিক ও ভিসেরা প্রতিবেদন প্রাপ্তি, মামলা দ্রুত নিস্পত্তির জন্য পদক্ষেপ গ্রহন, মামলার সাক্ষি উপস্থাপন করা, রিমান্ড ও ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৪ ধারার ক্ষেত্রে আপীল বিভাগের নির্দেশ পালন করা এবং উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত সমূহ নিয়ে আলোচনা হয়।
আলোচনায় উঠে এসেছে জখমীর সনদ প্রদান ও ময়না তদন্তের প্রতিবেদন দাখিলের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায়িত্বে অবহেলা করছেন। পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সাক্ষীর হাজিরা দিয়ে আদালতে উপস্থিত থাকেন না বা সঠিক সময়ে আদালতে সাক্ষির হাজিরা প্রদান করেন না। কনফারেন্সের প্রধান অতিথি ও সভাপতি আলোচনা শেষে আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও পিপিকে দায়িত্বশীল হতে এবং সিভিল সার্জন প্রতিনিধিকে সঠিক সময়ে এমসি ও পিএম রিপোর্ট প্রদানের ক্ষেত্রে সচেতন হতে আহবান করেন। তাহলে সঠিক সময়ে মামলার কার্যক্রম সমাপ্ত করা সম্ভব হবে বলে ধারনা করছেন বিচারকবৃন্দ।


error: Content is protected !!