শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরে ৪ টি পরিত্যক্ত সুইচ গেটের কারনে পুরো খাল খনন কার্যক্রম বিফলে যাচ্ছে। সখিপুর, ডিএমখালী ও আরশিনগর ইউনিয়নে প্রবাহমান খালের উপরে থাকা ৪ টি পরিত্যক্ত সুইচ গেটের কারনে খালগুলো দিয়ে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। ফলে সরকারি কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের এ খাল খনন কর্মসূচীর উপযোগীতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে স্থানীয় জনগণ। কিন্তু বিষয়টি সমাধানে কোন প্রকার পদক্ষেপ নেই সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে।
সরেজমিন ঘুরে ও স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, প্রায় ২০ বছর আগে সখিপুর-আরশি নগর ক্ষুদ্র পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের অধীনে একটি সমন্বিত প্রকল্পের মাধ্যমে ৪ টি সুইচগেট নির্মাণ করে সরকার। যার নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল আনুমানিক ১ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে সখিপুর টু কাশিপুর বাজার খালে ২টি, রশিদ বেপারীর কান্দি ১টি, আরশিনগর ইউনিয়নে ১টি সুইচ গেট রয়েছে। তবে সরকারি কোন অফিসের দায়িত্বে এ গেটগুলো করা হয়েছে সে সম্পর্কে সঠিক কোন তথ্য পাওয়া যায়নি জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড, উপজেলা কৃষি অফিস ও এলজিইডি অফিস ঘুরেও। এছাড়া যে সেচ প্রকল্পের উদ্দেশ্যে এসব সুইচগেট নির্মাণ করা হয়েছিল, তা বাস্তাবায়ন হয়নি সামান্য অংশেও। কিন্তু পরিত্যক্ত এ সুইচগেট গুলো বর্তমানে এসব এলাকায় জলাবদ্ধতা, নৌযান চলাচল বন্ধ ও ফসলের ক্ষতির প্রধান কারন হয়ে দাড়িয়েছে।
এদিকে সুষ্ঠ পানি প্রবাহের জন্য দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে গত বছর কাশিমপুর থেকে সখিপুর পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার খালটি খনন শুরু করে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড। বর্তমানেও শহীদ ব্রাদার্স এন্ড ইউনুস ব্রাদার্স (জেবি) নামে দুটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান খালটির খনন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দুইপাশ দিয়ে ৫০ ফুট চওড়া করে খালটি খনন করা হলেও পরিত্যক্ত দুটি সুইচ গেটের কারনে ব্যহত হচ্ছে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ। এছাড়া ক্ষুদ্রাকৃতির এসব সুচই গেট গুলোর কারনে কোন প্রকার নৌযান চলাচল করতে না পারায় হুমকির মুখে পড়েছে সখিপুরের ঐতিহ্যবাহী পশুর হাট সহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সুইচগেটের দুইপাশে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে প্রতি বর্ষায় পানিতে ডুবে নষ্ট হচ্ছে হাজার হাজার টাকার ফসল।
ডিএম খালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসীম মাদবর বলেন, এসব সুইচগেটের কারনেই খালগুলো মরতে শুরু করেছে। সুইচগেট গুলোর কারনে পানি চলাচল করতে না পারায় বর্তমানে খালগুলো খনন করেও কোন সুফল হচ্ছে না। এক কথায় খালগুলো এক প্রকার অভিশাপ।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সাব্বির মাদবর বলেন, খালগুলো দুইপাশে খনন করলেও সুইচগেটের অংশে খনন করা হয়না। ফলে বর্ষা মৌসুমেও পানি ও নৌযান চলাচল করতে পারে না। এছাড়া এই পরিত্যক্ত সুইচগেটের কারনে আমাদের এলাকার হাজার হাজার একর ফসলি জমি পানিতে ডুবে নষ্ট হচ্ছে। তাই সুইচগেট গুলো অপসারন করে খাল খনন করলে এর সুফল হবে।
স্থানীয় কৃষক পিরাজল সরদার ও অন্যন্যরা বলেন, সুইচগেটের কারনে পানি সরতে না পারায় প্রতিবছর আমাদের ফসল নষ্ট হয়ে যায়। সেচের জন্য এগুলো তৈরী করা হলেও, এখন তা অভিশাপ হয়ে দাড়িয়েছে।
খাল খননে নিযুক্ত ঠিকাদার মামুন মিয়া বলেন, আমি ঠিকাদার হিসেবে আমার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আসলে সুইচগেট গুলোর কারনে কি সমস্যা হচ্ছে তা আমার দায়িত্বের বাহিরে।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর আল নাসীফ বলেন, এসব সুইচগেটের কারনে যাতে পানি প্রবাহে কোন সমস্যার সৃষ্টি হয় এবং খাল খননের সুফল যাতে ব্যহত না হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে আমি অবগত করবো। যেহেতু এটি আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, শুনেছি এসব সুইচগেট গুলো এলজিইডির অধীনে। যেহেতু এগুলো পানিপ্রবাহ ও নৌচলাচলে বাঁধা সৃষ্টি হচ্ছে। আমি এলজিইডি কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেবো।
Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন