Sunday 16th June 2024
Sunday 16th June 2024

Notice: Undefined index: top-menu-onoff-sm in /home/hongkarc/rudrabarta.net/wp-content/themes/newsuncode/lib/part/top-part.php on line 67

ডামুড্যায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঘর নির্মাণ, বাঁধা দেয়ায় গৃহবধূর উপর হামলা

ডামুড্যায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঘর নির্মাণ, বাঁধা দেয়ায় গৃহবধূর উপর হামলা

শরীয়তপুরের ডামুড্যা পৌরসভায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পাকা ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষ আব্দুর রহমান চৌকিদারের বিরুদ্ধে। ঘর নির্মাণে বাঁধা দেয়ায় সেলিনা বেগম (৪২) নামে এক গৃহবধুর উপর হামলা করে গুরুতর আহত করেছে বলা জানা যায়। গত বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ডামুড্যা পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ ডামুড্যা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় সেলিনা বেগমকে ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত সেলিনা বেগম ডামুড্যা পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ ডামুড্যা গ্রামের আব্দুল লতিফ চৌকিদারের স্ত্রী।
ভুক্তভোগি ও এলাকাবাসী জানায়, দক্ষিণ ডামুড্যা গ্রামের আব্দুর রহমান চৌকিদারের সঙ্গে ভাই আব্দুল লতিফ চৌকিদারের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বাড়ির ২৬ শতাংশ জমি আব্দুর রহমান ও আব্দুল লতিফসহ তাদের পাঁচ ভাই, এক বোনের। কিন্তু ভাই আব্দুল লতিফ চৌকিদারকে জমি বুঝিয়ে না দিয়ে আব্দুর রহমান চৌকিদার জমি দখল করে পাকা ঘর নির্মাণ করছিল। সম্প্রতি আব্দুর রহমান ঘর তুলতে গেলে একাধিক মামলা হয় এবং ওই জমিতে ১৪৪ ধারাসহ আদালতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গত বুধবার বিকেলে আব্দুর রহমান রাজমিস্ত্রি নিয়ে ফের পাকা ঘর তুলতে যায়। আব্দুল লতিফরা বাঁধা দিলে তার স্ত্রী সেলিনা বেগমকে রড ও বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। সেলিনা বেগমকে রড ও বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে আব্দুর রহমান চৌকিদার, জলিল দপ্তরি, সুজন মাদবর ও ইয়ামিন মাদবর। গুরুতর আহত অবস্থায় সেলিনা বেগমকে ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার শরীয়তপুর আদালতে ওই চারজনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন আব্দুল লতিফ চৌকিদার।
এ ব্যাপারে আব্দুল লতিফ চৌকিদার বলেন, বাড়িতে ২৬ শতাংশ জমি আমাদের পাঁচ ভাই, এক বোনের। কিন্তু আমাকে জমি বুঝিয়ে না দিয়ে আব্দুর রহমান চৌকিদার আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখল করে পাকা ঘর তুলছে। বাঁধা দেয়ায় আমার স্ত্রীকে রড ও বাঁশ দিয়ে পিটিয়েছে। এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবী করছি। আমি আমার প্রাপ্য জমি চাই। আব্দুল লতিফ আরও বলেন, আব্দুর রহমান ইউএনও অফিসে চাকরি করে সেই প্রভাব খাটিয়ে আমাদের মারধর করে এবং ভয়ভীতি দেখায়।
এদিকে আব্দুর রহমান চৌকিদার বলেন, আমাদের পাঁচ ভাই, এক বোনের পৈত্তিক সম্পত্তি মোট ৬২ শতাংশ। এর মধ্যে বাড়িতে ২৬ শতাংশ জমি আমাদের চার ভাই ও এক বোনের। আর অন্য জায়গায় আব্দুল লতিফের সম্পতি বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। ২৬ শতাংশের মধ্যে ৬ শতাংশ জমি আমার। সেই সম্পত্তি আমার চার মেয়ের কাছে বিক্রি করেছি। সেই জমিতে মেয়েরা ঘর তুলছে, তাই তিনটি মামলা করেছে আব্দুল লতিফ। গত বুধবার বিকেলে আমি বাড়িতে ছিলাম না। সেলিনাকে কিভাবে মারধর করবো।
ডামুড্যা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, আব্দুর রহমান ও আব্দুল লতিফের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ আছে। জমিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা আছে। তবে বুধবার মারধরের ঘটনায় কেউ থানায় আসেনি।