নিজের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে দেশে জমি কিনেছিলেন শরীয়তপুরের ইতালি প্রবাসী চান মিয়া বেপারী (৫৫)। কিন্তু সেই জমির দখল নিতে বাধা দেওয়ায় উল্টো মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলায় এখন তিনি কারাগারে। জমি দখল ও হয়রানির প্রতিবাদে ভুক্তভোগী প্রবাসীর পরিবার রোববার (৭ ডিসেম্বর) শরীয়তপুর শহরের আইনজীবীর চেম্বারে এক সংবাদ সম্মেলন করে সুবিচার ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসীর স্ত্রী নাহার বেপারী, ভাই সামসেল হক বেপারী ও ভাতিজা আলমাস বেপারী দাবি করেন, জাজিরা উপজেলার মুলনা ইউনিয়নের কাউয়াদী গ্রামে একরাম আলী বেপারীর কাছ থেকে প্রবাসী চান মিয়া বেপারী যে ৫০ শতাংশ জমি ক্রয় করেছিলেন, প্রভাবশালী মহল সেটি বুঝে না দিয়ে নানাভাবে হেনস্তা করছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নাহার বেপারী বলেন, “আমার স্বামী ২০ বছর ইতালি ছিলেন। দেশে এসে নিজের কেনা সম্পত্তির অধিকার চাইতে গিয়ে এখন তিনি মিথ্যা মামলার আসামি। সম্প্রতি স্থানীয় সালিশ বৈঠকে প্রভাবশালীরা জোর করে স্টাম্পে ও সাদা কাগজে আমাদের স্বাক্ষর নেয়। আমরা এর প্রতিবাদ জানালে এক্রাম বেপারীর ছেলে দুলাল বেপারী, হেলাল বেপারীসহ আরও কয়েকজন রাতের আঁধারে ভেকু মেশিন এনে আমাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি চরমে পৌঁছালে মিথ্যা মামলা দিয়ে আমার স্বামীকে জেলে পাঠিয়েছে তারা।”

প্রবাসীর স্ত্রী আরও জানান, “আমার দুই ছেলে এখনো প্রবাসে। আমি বাড়িতে একা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমরা এই প্রভাবশালী মহলের কবল থেকে বাঁচতে চাই। আমার স্বামীর মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে মুক্তি এবং জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।”

প্রবাসীর ভাই সামসেল হক বেপারী ও ভাতিজা আলমাস বেপারী অভিযোগ করেন, তাদের প্রতিবাদ সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করা হয়েছে এবং জোরপূর্বক কাগজে সই নেওয়ার পরই মিথ্যা মামলা দিয়ে চান মিয়াকে গ্রেপ্তার করানো হয়েছে। তারা অবিলম্বে প্রবাসীর মুক্তি ও সুবিচার দাবি করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে বারবার চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

তবে, চান মিয়া বেপারীর গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল ইসলাম বলেন, “আইন অনুযায়ী মামলা না থাকলে পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করে না। প্রবাসীকে অন্যের জমি দখল ও চাঁদাবাজির একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা তদন্ত করে দেখছি।”

Facebook Comments Box