শনিবার, ১০ই ডিসেম্বর, ২০২২ ইং, ২৫শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৬ই জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরী
শনিবার, ১০ই ডিসেম্বর, ২০২২ ইং

মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় নড়িয়ায় ৩ কিশোর কে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ

মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় নড়িয়ায় ৩ কিশোর কে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ

শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার সালধ গ্রামে মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় ৩ কিশোরকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার সন্ধায় কদমতলা বাজার সংলগ্ন সালধ ব্রীজের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন, পাটদল গ্রামের ইসহাক হাওলাদারের পুত্র শাওন হাওলাদার (২০) মোকসেদ আলী বেপারীর পুত্র দ্বিন ইসলাম (১৭) বেপারী, বাচ্চু ছৈয়ালের পুত্র জিহাদ ছৈয়াল (১৫)। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার নড়িয়া থানায় আহতদের পরিবার একটি মামলা দায়ের করেছে।
মামলা সূত্র ও আহতদের স্বজনদের দেয়া তথ্যে জানা গেছে, গত ০৬/০২/২০১৯ ইং তারিখে সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার সময় কদমতলা সংলগ্ন সালধ ব্রীজের পাশে দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন শাওন, দ্বীন ইসলাম ও জিহাদ, ঐ সময় শালধ গ্রামের মৃত আদম আলী ঢালীর ছেলে আব্দুল খালেক ঢালী ও আনিস ঢালী, কাশেম ঢালীর ছেলে মোরছালিন ঢালী, সালাম ঢালীর ছেলে শামীম ঢালী, আমিনুদ্দিন বেপারীর ছেলে আসলাম বেপারী (৪০), হাকিম সর্দারের ছেলে বিপ্লব সরদার, বাবুল বেপারীর ছেলে সাগর বেপারী (২০) ও সেলিম ঢালীর ছেলে দিপু ঢালীসহ আরো ৫/৬ জন দেশি অস্ত্র রাম দা, চাপাতি, হকিষ্টিক নিয়ে অতর্কিতভাবে হামলা চালায় এবং মাথা লক্ষ্য করে কোপাতে থাকে, কোপের আঘাতে মাটিতে পড়ে যায় শাওন, ইসহাক ও জিহাদ। এসময় ডাকচিৎকার শুনে স্থানীয়রা তাদের রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য প্রথমে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়, ৩ জনের মধ্যে শাওন ও দ্বিন ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের কে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছে, আর জিহাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এই ঘটনায় শাওনের মামা এবং জিহাদ ও দ্বীন ইসলামের চাচা মোহাম্মদ আলী মাঝি বাদি হয়ে নড়িয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
ঘটনার ৪ দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও শাওন ও দ্বীন ইসলাম আশংকা মুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। অপরদিকে ঘটনায় জড়িতদের কাউকেই আটক করতে পারেনি পুলিশ। উল্টো অভিযুক্তরাই মিথ্যা মামলার ভয় দেখাচ্ছে বলে দাবী জানিয়েছেন আহতদের স্বজনরা।
মাদকের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীকে নিয়ে কাজ করতে গিয়ে এখন নিজের পরিবারের সদস্যদের জীবনে নিরাপত্তা হুমকির মুখে, এই হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসন সঠিক হস্তক্ষেপ না করলে মাদক নির্মূলে সাধারণ জনগণ কিভাবে এগিয়ে আসবে? জানতে চান মামলার বাদী মোহাম্মদ আলী মাঝি।
আহত শাওনের মা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, মানুষ মানুষকে মারে কিন্তু এমন করে কোপাতে হবে? ওরা কি মানুষ? আমি এর বিচার চাই, ডিসি এসপি সহ পুলিশের আইজিপি’র কাছে নজরদারি চাই আমরা। ৪ দিন গত হলে ও হামলাকারীদের ধরতে পারে নি পুলিশ। আমরা কি বিচার পাবো না?
হামলার ঘটনা সম্পর্কে জানতে অভিযুক্তদের সাথে নানাভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কারো সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মঞ্জুরুল হক আখন্দ বলেন অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।


error: Content is protected !!