বুধবার সকালে গাজার উদ্দেশ্যে যাত্রাকালে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মী ও আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে ইসরাইলি বাহিনী আটক করেছে। তিনি ছিলেন ‘কনসেন্স’ নামের একটি নৌযানে, যা ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা’ নামে পরিচিত মানবিক সহায়তা কনভয়ের অংশ।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও শহিদুল আলমের নিজস্ব ফেসবুক ভিডিও বার্তায় জানা যায়, ইসরাইলি নৌবাহিনী সমুদ্রে অভিযান চালিয়ে ওই নৌবহরের একাধিক জাহাজ ও যাত্রীদের আটক করে তাদের একটি বন্দরে নিয়ে যায়। শহিদুল আলম ভিডিওতে বলেন, “আমি শহিদুল আলম, বাংলাদেশের একজন আলোকচিত্রী ও লেখক। আমাদের সমুদ্রে আটক করা হয়েছে এবং আমাকে ইসরায়েলের দখলদার বাহিনী অপহরণ করেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা শক্তির সক্রিয় সহযোগিতায় যারা গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমি আমার সকল কমরেড ও বন্ধুদের কাছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”

ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন জানিয়েছে, তাদের নৌবহরটি গাজার দিকে মানবিক সহায়তা নিয়ে যাত্রা করছিল। এতে সাংবাদিক, চিকিৎসক ও মানবাধিকার কর্মীরা ছিলেন, যারা গাজার সংকট মোকাবেলায় সহায়তা পৌঁছানোর চেষ্টা করছিলেন।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি ও রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলি বাহিনী অন্তত তিনটি জাহাজ—‘গাজা সানবার্ডস’, ‘আলা আল-নাজ্জার’ ও ‘আনাস আল-শরীফ’—আটক করেছে এবং ‘কনসেন্স’ নামের জাহাজটিও হামলার মুখে পড়ে। এতে ৯০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন, যাদের মধ্যে শহিদুল আলম অন্যতম।

ইসরাইলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “আইনগত নৌ অবরোধ ভাঙার আরেকটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা। যাত্রীদের নিরাপদে বন্দরে নিয়ে আসা হয়েছে এবং দ্রুত তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে।”

এই ঘটনার পর ইউরোপজুড়ে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইসরাইলের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে।

Facebook Comments Box