মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক অভাবনীয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে ‘ইসলামিক ন্যাটো’র আদলে একটি ত্রিপক্ষীয় সামরিক জোট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক। পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর ‘অনুচ্ছেদ ৫’-এর আদলে প্রস্তাবিত এই চুক্তিতে বলা হয়েছে, জোটের কোনো এক সদস্যের ওপর হামলা হলে তা সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।
ব্লুমবার্গ ও এনডিটিভির বরাত দিয়ে জানা গেছে, এই জোটের কর্মপরিকল্পনায় সৌদি আরব প্রধানত অর্থায়ন করবে। বিনিময়ে পাকিস্তান তার পারমাণবিক সক্ষমতা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ও বিশাল সামরিক জনবল দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। অন্যদিকে, তুরস্ক তার উন্নত প্রতিরক্ষা শিল্প এবং সামরিক কৌশলগত দক্ষতা এই জোটে যুক্ত করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েল-ঘেঁষা নীতি এবং পরিবর্তিত আঞ্চলিক পরিস্থিতির কারণে দেশগুলো নতুন এই সুরক্ষা বলয় তৈরির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সামরিক উত্তেজনার সময় তুরস্কের জোরালো সমর্থন এই ত্রিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি আরও মজবুত করেছে।
প্রতিরক্ষা খাতে ইতোমধ্যে তিন দেশের সমন্বয় শুরু হয়েছে। তুরস্ক পাকিস্তানের জন্য যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ ও এফ-১৬ বিমানের আধুনিকায়ন করছে। এছাড়া সৌদি আরব ও পাকিস্তানকে তুরস্কের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে আঙ্কারায় তিন দেশের নৌ-বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রথম বৈঠকটি এই জোট গঠনের পথে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন