শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে মুক্তিযোদ্ধা হাজী মো. আবুল হাসেম মোল্যার বাড়িঘরে হামলা, মারপিট ও ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার (৫ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার নাওডোবা ইউনিয়নের তস্তার কান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা হাজী আবুল হাসেম মোল্যা জাজিরা থানায় অভিযোগ করেছেন।

জানা গেছে, তস্তার কান্দি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা হাজী আবুল হাসেম মোল্যার সাথে প্রতিবেশী সিদ্দিক তস্তার, নজরুল তস্তার, ফারুক তস্তার, ফরহার তস্তার, রহমান তস্তার, সেকেন্দার তস্তার, আব্দুর রশিদ তস্তার, আবুল বাশার তস্তার, মোস্তফা তস্তার গংদের সাথে দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে আদালতে মামলা মামলাও চলছে। এই বিরোধের সূত্র ধরে বাড়ির মহিলাদের মধ্যে ঝগড়াঝাটির এক পর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা হাজী মো. আবুল হাসেম মোল্যার বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে মারপিট ও ভাংচুর করে বলে অভিযোগ করেন মুক্তিযোদ্ধা হাজী মো. আবুল হাসেম মোল্যা।

মুক্তিযোদ্ধা হাজী মো. আবুল হাসেম মোল্যা অভিযোগ করে বলেন, প্রতিপক্ষের সাথে আমার জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলছে। আমার জায়গার মধ্যে তারা বাড়িঘর করে দখলে নিয়েছে। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। সালিশরা এসে বন্টন ও আপোষ মিমাংসা করে দিয়েছে। কিন্তু ওই পক্ষের লোকজন কোন দরবার সালিশই মানে না। উল্টা তারা আমার আমার পরিবারের উপর অত্যাচার নির্যাতন করে আসছে। গত বুধবার ইফতারের সময় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা আমার বাড়িতে হামলা ভাংচুর করেছে। আমাদের মারপিট করেছে। আমি প্রতিবন্ধী মুক্তিযোদ্ধা। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

এ বিষয়ে সিদ্দিক তস্তার, আব্দুর রশিদ তস্তার ও মোস্তফা তস্তার বলেন, মুক্তিযোদ্ধা হাজী মো. আবুল হাসেম মোল্যার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তার বাড়িতে কেউ ভাংচুর বা মারধর করেনি। বাড়ির মহিলারা শুধু কথা কাটাকাটি করেছে। মো. আবুল হাসেম মোল্যা মুক্তিযোদ্ধার বল দেখিয়ে কিছু হলেই আমাদের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আমাদের হয়রানী করে। সে জমির সীমানা ও ঘরের ভিটির মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের যাতায়াতের পথে কাটা দিয়ে রাখে। সে আমাদের নানা ভাবে অত্যাচার নির্যাতন করে আসছে। কোন সালিশ দরবার সে মানে না। তার অত্যাচারে এলাকার লোকজনও অতিষ্ট। আমরা এর সুষ্ঠু সমাধান চাই।

এ বিষয়ে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Facebook Comments Box