টানা ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন শাসন শেষে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিদায় এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব গ্রহণকে দিল্লির নীতিনির্ধারকরা বড় ধরনের ‘স্বস্তি’ হিসেবে দেখছেন। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, গত দেড় বছরে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ইস্যুতে ড. ইউনূসের ‘চোখে চোখ রেখে’ কথা বলার নীতির কারণে দিল্লি যে অস্বস্তিতে ছিল, তার অবসান ঘটেছে বলে মনে করছে সাউথ ব্লক।

বিশ্লেষকদের মতে, ড. ইউনূস দিল্লিকেন্দ্রিক পররাষ্ট্রনীতি ভেঙে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ায় ভারত এক ধরনের ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল। বিশেষ করে শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া, সীমান্ত হত্যা এবং ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের মিশনগুলোতে হামলার ঘটনায় ঢাকার কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতকে রক্ষণাত্মক অবস্থানে ঠেলে দেয়। আইপিএল থেকে মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জনের হুমকি কিংবা ভারতীয় দূতকে বারবার তলব করার মতো ঘটনাগুলো ছিল নজিরবিহীন।

তবে তারেক রহমানের সরকারের আগমনে দিল্লি ইতিবাচক বার্তা দিলেও সম্পর্কে চ্যালেঞ্জ রয়েই গেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতোমধ্যে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং শপথ অনুষ্ঠানে লোকসভার স্পিকারকে পাঠিয়েছেন। কিন্তু ভারতের মূল লক্ষ্য থাকবে শেখ হাসিনার আমলে সই হওয়া চুক্তিগুলো বহাল রাখা এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।

অন্যদিকে, গঙ্গা পানি চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি, তিস্তা সমস্যা, সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের মতো অমীমাংসিত ইস্যুগুলো নতুন সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা হবে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. এম শহীদুজ্জামানের মতে, ড. ইউনূস যেভাবে শক্ত হাতে দিল্লিকে ডিল করেছেন, নতুন সরকার সেই ধারা বজায় রাখতে পারবে কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। দিল্লি মূলত নজর রাখছে তারেক রহমান তার মা খালেদা জিয়ার ‘কঠোর’ ভারতনীতি অনুসরণ করেন নাকি কোনো নতুন সমঝোতায় আসেন।