নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করতে গিয়ে স্থানীয়দের ছোড়া ইটের আঘাতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম আহত হয়েছেন। রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে উপজেলার পঞ্চবটি চাঁদনী হাউজিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জাকির হোসেন (৬৫) নামে এক ভাড়াটিয়া ওই রাতে পাশের কক্ষের পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে নিজের ঘরে ডেকে নেন। সেখানে শিশুটির সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের চেষ্টা করা হলে পাশের কক্ষে থাকা কয়েকজন নারী বিষয়টি দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করেন।

চিৎকার শুনে আশপাশের বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে জাকির শিশুটিকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে নিজের কক্ষে অবস্থান নেন এবং দরজা বন্ধ করে দেন।

খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ওসি মাহবুব আলমের নেতৃত্বে প্রায় ২০ থেকে ২২ জন পুলিশ সদস্য স্থানীয়দের শান্ত করে অভিযুক্তকে আটক করার চেষ্টা করেন।

একপর্যায়ে পুলিশ জাকির হোসেনকে আটক করে গাড়িতে তোলার সময় স্থানীয়দের একটি অংশ ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এতে একটি ইট ওসির মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন এবং মাথা থেকে রক্তপাত শুরু হয়।

পরে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত তাকে গাড়িতে তুলে পাশের সদর থানায় নিয়ে যান। সেখান থেকে ওসিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম বলেন, শিশুটিকে নির্যাতনের চেষ্টার ঘটনায় প্রায় এক হাজার এলাকাবাসী প্রতিবাদে জড়ো হয়েছিলেন। পুলিশ স্থানীয়দের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর অভিযুক্তকে গাড়িতে তোলার সময় কয়েকজন ইটপাটকেল ছোড়েন। এতে তাঁর মাথায় ইটের আঘাত লাগে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়।

তিনি জানান, শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।