জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান ও তার ছেলে, মাদারীপুর সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আসিবুর রহমানকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আদালত।

সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবীর দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। শুনানির আগে কারাগার থেকে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। পরে গ্রেপ্তার দেখানোর পর দুজনকেই কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

মামলায় আসিবুর রহমানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৯ কোটি ৮৯ লাখ ৫ হাজার ৬৮৫ টাকার সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, আয়করদাতা আসিবুর রহমানের নামে মোট ১১ কোটি ৭৯ লাখ ৫ হাজার ২৪৮ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়। অনুসন্ধানে তার গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস হিসেবে ১ কোটি ৮৯ লাখ ৯৯ হাজার ১৮৩ টাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এ হিসাবে তার নামে ৯ কোটি ৮৯ লাখ ৫ হাজার ৬৮৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ও অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুদক।

অভিযোগে আরও বলা হয়, শাহজাহান খান সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অসদুপায়ে অর্জিত অর্থ দিয়ে ছেলে আসিবুর রহমানের নামে এসব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনে সহযোগিতা করেছেন।

এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি দুদকের উপপরিচালক কমলেশ মন্ডল বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

এদিন আদালতে পুলিশি পাহারায় হাজির করা হলে শাহজাহান খান সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘এনসিপিকে নিয়ে কী বলব, তারা জামায়াতের সঙ্গে মিশে জামায়াতে ইসলামী হয়ে গেছে।’

এর আগে ২০২৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে শাহজাহান খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।