গত সাত মাসে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাস ফিরে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় বিভিন্ন স্তরের ১০২ জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হয়।

শিক্ষা সচিব বলেন, ১৯৬৬ সালে ইউনেসকো ও আইএলও গৃহীত সনদের ধারাবাহিকতায় প্রায় ৬০ বছর পর বাংলাদেশে এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন স্তরের ১০২ জন শিক্ষককে সম্মাননা দিতে পেরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সরকার গর্বিত। জাতীয় উন্নয়নের প্রধান ভিত্তি শিক্ষা, গবেষণা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

গত সাত মাসে শিক্ষাক্ষেত্রে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে আবদুল খালেক বলেন, এ সময়ের মধ্যে শিক্ষা খাতে শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাস ফিরে এসেছে। বিশ্ব শিক্ষক দিবসের এই আয়োজন তারই একটি বড় প্রমাণ।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উদ্যোগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৯৯৩ সালে নারীশিক্ষার প্রসার, বাল্যবিবাহ রোধ ও শিক্ষার্থী ঝরে পড়া কমাতে সার্বজনীন উপবৃত্তি চালু করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এর পরিধি কমে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশে নেমে আসে। পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার সাত মাসের মধ্যে অর্থসংকট থাকা সত্ত্বেও ৭০ লাখ মেয়েকে সার্বজনীনভাবে উপবৃত্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

শিক্ষকদের পেনশন ও অবসরভাতা পাওয়ার বিষয়েও সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন শিক্ষা সচিব। তিনি বলেন, সাত মাসের মধ্যে ৭০ হাজার শিক্ষকের পেনশন ও অবসরভাতা পাওয়ার পথ সহজ করা হয়েছে। ইএফটি ও আইবাস ব্যবস্থার মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষাক্রম হালনাগাদের বিষয়েও বক্তব্য দেন আবদুল খালেক। তিনি বলেন, শিক্ষাক্রম আপডেট করা হয়েছে এবং শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে তা বাস্তবায়ন করবেন। নতুন শিক্ষাক্রম বিদ্যালয়ে কার্যকর করতে শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে সম্মাননা পাওয়া ১০২ জন শিক্ষককে সরকারের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান শিক্ষা সচিব। তিনি বলেন, এসব শিক্ষককে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে। ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাদের সম্পৃক্ত করা হবে এবং তারা যেন প্রাপ্য সম্মান পান, সে বিষয়েও সরকার কাজ করবে।