শরীয়তপুর প্রতিনিধি: আদালতে মামলা চলমান। বিরোধপূর্ণ জমিতে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশও রয়েছে। এর মধ্যেই জমি দখল করে পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি শরীয়তপুর সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের চন্দ্রপুর এলাকার। ভুক্তভোগী একটি প্রবাসী পরিবারের অভিযোগ, জমি দখল ও নির্মাণকাজের পেছনে স্থানীয় বিএনপি নেতা আফজাল হোসেন হাওলাদারের মদত রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, চন্দ্রপুর এলাকায় ৭০ দশমিক ৩৭ শতাংশ জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ বিরোধের জেরে শরীয়তপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ও ১৪৫ ধারায় মামলা হয়েছে। মামলাটি চলমান রয়েছে বলে দাবি তাঁদের। আদালতের নোটিশে বিরোধের উভয় পক্ষকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।
পরিবারটির অভিযোগ, আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বিরোধপূর্ণ জমিতে নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে। জমির দখল নেওয়ার চেষ্টা করার পাশাপাশি সেখানে পাকা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে নিজেদের সম্পত্তির মালিকানা ও দখল নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন তাঁরা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, মামলার নোটিশে দ্বিতীয় পক্ষ হিসেবে উল্লেখিত খবির খাঁ, কবির খাঁ ও আলেকচাঁদ সরদার জমি দখলের চেষ্টা করছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখানো ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বিনোদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আফজাল হোসেন হাওলাদারের বিরুদ্ধে মদত দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। তাঁদের দাবি, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে বিরোধপূর্ণ জমিতে নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় বিরোধপূর্ণ জমিতে নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগ ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের প্রশ্ন, আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে কি না এবং নির্মাণকাজের আইনগত ভিত্তি কী—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
পরিবারটির সদস্যরা জানান, সম্পত্তি রক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ অবস্থায় তাঁরা বিরোধপূর্ণ জমির প্রকৃত অবস্থা তদন্ত, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন, নির্মাণকাজের বৈধতা যাচাই এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা প্রয়োজন।

মন্তব্য করুন