পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন বাংলাদেশের তরুণ আলেম মাওলানা নাসরুল্লাহ বদর। তিনি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের জামিয়া রবিউল উলুম মাদ্রাসায় মুহাদ্দিস হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, শনিবার (১১ অক্টোবর) সৌদি আরবে বিমানবন্দর এলাকায় হুতিদের ধারাবাহিক হামলার সময় নাসরুল্লাহ সেখানে অবস্থান করছিলেন। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার মুহূর্তে তিনি হামলার শিকার হন।

নাসরুল্লাহ বদরের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামে। স্থানীয়ভাবে তাদের বাড়ি ‘ওলামা বাড়ি’ নামে পরিচিত। তার বাবা হাফেজ মোহাম্মদ উল্লাহ ইসলামিয়া আরাবিয়া ফয়জুল উলুম সিংগরিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম।

চার ভাইয়ের মধ্যে নাসরুল্লাহ ছিলেন তৃতীয়। ব্যক্তিজীবনে তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ের বাবা। তার বড় সন্তানের বয়স সাত বছর এবং ছোট সন্তানের বয়স দুই বছর।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাসরুল্লাহর সর্বশেষ পোস্টগুলো থেকে জানা যায়, শনিবার সকালে তিনি ঢাকা থেকে রিয়াদের উদ্দেশে যাত্রা করেন। ওমরাহ পালনের জন্য বিমানে ইহরাম পরা অবস্থায় নিজের একটি ছবিও শেয়ার করেছিলেন তিনি।

রিয়াদে পৌঁছানোর পর ফেসবুকে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ লিখে নিরাপদে পৌঁছানোর কথা জানান নাসরুল্লাহ। একই সঙ্গে সবার কাছে দোয়া চেয়েছিলেন তিনি। এর কিছু সময় পরই হামলায় তার মৃত্যুর খবর আসে।

সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শনিবারের হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশাপাশি দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছেও একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছে বলে জানানো হয়েছে।

মাওলানা নাসরুল্লাহ বদরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের বদরপুর এবং ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে তার কর্মস্থল মাদ্রাসায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।