উপজেলা সংবাদদাতা:খুলনার তেরখাদা উপজেলায় এবার ৯৭টি পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। গত বছর এ উপজেলায় ৯৯টি মণ্ডপে পূজা উদ্‌যাপিত হয়েছিল। সে হিসাবে এবার মণ্ডপের সংখ্যা কমেছে দুটি। আগামী ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হতে যাওয়া এ উৎসবকে ঘিরে ইতিমধ্যে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। প্রতিমা নির্মাণ, মণ্ডপসজ্জা ও আলোকসজ্জার পাশাপাশি উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ।
উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, তেরখাদার ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে আজগড়ায় ২১টি, বারাসাতে ১৪টি, ছাগলাদহে ৬টি, সাচিয়াদহে ৩৬টি, তেরখাদা সদরে ১৮টি এবং মধুপুরে দুটি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সাচিয়াদহ ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি এবং মধুপুর ইউনিয়নে সবচেয়ে কম মণ্ডপ রয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও প্রতিমায় রঙের শেষ আঁচড় দিচ্ছেন শিল্পীরা, কোথাও চলছে প্যান্ডেল নির্মাণ ও আলোকসজ্জার কাজ। উপজেলা সদরের সাহাপাড়া কেন্দ্রীয় মন্দির প্রাঙ্গণেও চলছে প্রতিমা তৈরি ও মণ্ডপ সাজানোর ব্যস্ততা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব কাজ শেষ করতে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন প্রতিমাশিল্পী ও আয়োজকেরা।
প্রতিমা নির্মাণশিল্পী জগবন্ধু পাল জানান, এ বছর তাঁরা সাতজন মিলে ১৩টি প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। প্রতিমার বাইরের কাজ প্রায় শেষ হলেও কিছু কাজ বাকি রয়েছে। পাট, মাটি ও অন্যান্য উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতিমা তৈরির খরচও বেড়েছে। এতে লোকসানের আশঙ্কা থাকলেও প্রতিমা মণ্ডপে স্থাপন করতে পারার আনন্দই তাঁদের পরিশ্রমের সার্থকতা।
তেরখাদা উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি অরবিন্দ প্রসাদ ও সাধারণ সম্পাদক শংকর কুমার বালা বলেন, গত বছর উপজেলায় ৯৯টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবার দুটি কমে ৯৭টি মণ্ডপে পূজা হবে। মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা নির্মাণ, সাজসজ্জা ও অন্যান্য প্রস্তুতি চলছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
এদিকে দুর্গোৎসব ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন। পূজামণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য ছড়ানো প্রতিরোধ এবং সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে সতর্ক থাকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোনো মণ্ডপে সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত প্রশাসনকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। পূজার সময় স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল টিমও দায়িত্ব পালন করবে।
তেরখাদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা সুলতানা নীলা বলেন, সবার সহযোগিতায় উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পূজামণ্ডপগুলো সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার উদ্যোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য ও গুজব ছড়ানো ঠেকাতে নজরদারি বাড়াতে হবে। পাশাপাশি কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ও সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কোথাও কোনো সমস্যা হলে দ্রুত প্রশাসনকে জানাতে হবে।
তেরখাদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহমেদ আলী বিশ্বাস বলেন, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ সতর্ক থাকবে। নিরাপত্তার স্বার্থে পূজামণ্ডপগুলোতে সাধ্য অনুযায়ী সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।
উপজেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক চৌধুরী কাওসার আলী জানান, তাঁদের দলের নেতাকর্মীরা পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করবেন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব উদ্‌যাপনে তাঁরা সহযোগিতা করবেন।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, প্রশাসন, পুলিশ, রাজনৈতিক দল ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতায় তেরখাদায় শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হবে।