স্থানীয় বিএনপি নেতাদের উদ্যোগে একাধিকবার সালিশ হয়েছে। বিষয়টি সংসদ সদস্যকেও জানানো হয়েছে। বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হলেও প্রায় ৪৫ বছর আগে কেনা ১০ কাঠা জমির দলিল বুঝে পাননি বলে অভিযোগ করেছেন খুলনার তেরখাদা উপজেলার নিপুল রায়। দীর্ঘদিনের হয়রানি এবং তার বাবা নিমাই রায়ের মৃত্যুর ঘটনার বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। বুধবার (১৪ অক্টোবর) উপজেলার ছাগলাদহ ইউনিয়নের ১১ আমতলা এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জমির দলিল বুঝিয়ে দেওয়া, দীর্ঘদিনের হয়রানির প্রতিকার এবং নিমাই রায়ের মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। এ সময় সুমন মিস্ত্রি, প্রশান্ত মিস্ত্রি, রতিকান্ত মিস্ত্রি ও সৌমেন মিস্ত্রির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তাদের বিচারের দাবি জানানো হয়।
নিপুল রায়ের অভিযোগ, তার বাবা নিমাই রায় প্রায় ৪৫ বছর আগে সীতারামপুর এলাকায় ১০ কাঠা বসতভিটার জমি কেনেন। জমি বিক্রির সময় বিক্রেতারা তার বাবার কাছ থেকে নগদ আট হাজার টাকা নেন। পরে ওই জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ করে পরিবারটি বসবাস করে আসছে। কিন্তু টাকা নেওয়ার পরও জমিটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
নিপুল রায়ের ভাষ্য, জমির দলিল করে দেওয়ার কথা বললে তার বাবাকে একাধিকবার মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে জমির দলিল না পাওয়ার পাশাপাশি তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে। এ নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেও তারা স্থায়ী সমাধান পাননি।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হয়। থানা ও পুলিশ ক্যাম্পেও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে বিবাদীরা জমি লিখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছিলেন বলে দাবি নিপুলের। তবে পরবর্তীতে জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়নি। বরং বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি ও হয়রানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার।
নিপুল জানান, বিষয়টি খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলালকে জানানো হয়েছিল। পরে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বিএনপির নেতাকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্যোগ নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপরও একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও জমির দলিল বুঝে পাননি তারা। দীর্ঘদিনেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় মানববন্ধনের মাধ্যমে নিজেদের দাবি তুলে ধরেছেন বলে জানান তিনি।
এদিকে, এ ঘটনায় নিপুল রায় গত ৯ অক্টোবর তেরখাদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে সুমন মিস্ত্রি ও তার বাবা প্রশান্ত মিস্ত্রিকে বিবাদী করা হয়েছে। এতে বলা হয়, গত ৬ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বিবাদীরা তার বাড়িতে গিয়ে গালিগালাজ করেন এবং মারধরের চেষ্টা করেন। তাকে বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার জন্য ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, জমি নিয়ে বিরোধের কারণে যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন নিপুল।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের জমি বিরোধের অবসান ঘটিয়ে তাদের কেনা জমির দলিল বুঝিয়ে দিতে হবে। একই সঙ্গে নিমাই রায়ের মৃত্যুর ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

মন্তব্য করুন