পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর কলকাতার কালীঘাটের বাড়ির সামনে তার ওপর ছুরি নিয়ে আক্রমণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে কালীঘাটের মিলন সংঘ ক্লাবের দুর্গা পূজার উদ্বোধন করতে গিয়ে এই ঘটনার শিকার হন মমতা।

তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য দোলা সেন জানিয়েছেন, মঙ্গলবার নিজ পাড়ার পূজা উদ্বোধন করতে গিয়েছিলেন মমতা। ওই আয়োজনে পাড়ার শিশুদের নিয়ে ফিতা কেটে পূজার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী।

পূজা উদ্বোধন শেষে বের হওয়ার সময়ই হেনস্তার মুখে পড়েন মমতা। অভিযোগ অনুযায়ী, সে সময় এক নারী তার সামনে এসে দাঁড়িয়ে তীব্র চিৎকার-চেঁচামেচি ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে ওই নারী মমতার পায়ের সামনে এসে রাস্তায় শুয়ে পড়েন। পরে ওই নারী মমতাকে ছুরি দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করেন।

অভিযুক্ত ওই নারীর নাম তন্নিষ্ঠা সাহা। তিনি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি মাদকাসক্ত বলেও দাবি করা হচ্ছে।

ঘটনার পরপরই সংসদ সদস্য দোলা সেন ইমেইলের মাধ্যমে কালীঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস)-এর ১৭৩ ধারায় মামলা নথিভুক্ত করার আবেদন জানান তিনি।

কালীঘাট থানার ওসির কাছে পাঠানো অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে নিজেকে সিভিক ভলান্টিয়ার পরিচয় দেওয়া তন্নিষ্ঠা সাহা নামের এক নারী হিংস্র ভঙ্গিতে মমতা ব্যানার্জীকে ছুরি দিয়ে আক্রমণ করেন ও নিজেকে তার ভাগ্নি বলেও দাবি করেন।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ওই নারী মাদকাসক্ত ছিলেন। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার পাশাপাশি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তিনি মমতার দিকে হিংস্রভাবে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একজন ‘জেড প্লাস’ ক্যাটাগরির নিরাপত্তাপ্রাপ্ত ব্যক্তির ওপর এমন হামলা কোনো বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ কি না, সে বিষয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।

লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর কালীঘাট থানার পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করেছে।