বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বিরুদ্ধে ন্যায্য বিচার না পাওয়া এবং পারিবারিক পরিচয়ের কারণে অন্যায্য আচরণের অভিযোগ তুলেছেন সংস্থাটির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সাবেক আঞ্চলিক পরিচালক সায়মা ওয়াজেদ। বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা অস্ট্রেলিয়ার একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত মতামতধর্মী লেখায় এসব অভিযোগ করেছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) মেলবোর্নভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য অস্ট্রেলিয়া টুডেতে তার লেখাটি প্রকাশিত হয়। ‘আই ওয়াজ রিডিউসড টু মাই ফ্যামিলি নেম অ্যান্ড ডিনাইড ডিউ প্রসেস বাই ডব্লিউএইচও’ শিরোনামের ওই লেখায় সায়মা দাবি করেন, তার পেশাগত অর্জনের চেয়ে পারিবারিক পরিচয়কেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সায়মার ভাষ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে তিনি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। ওই সময়ের পর তাকে মূলত শেখ হাসিনার সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুসের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সায়মা। তার দাবি, তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চলার বিষয়টি জানার পরও সংস্থাটির নেতৃত্ব একটি নিরপেক্ষ ও ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে পারেনি।
বাংলাদেশে জমি বরাদ্দ এবং চীন সফরসংক্রান্ত ৯০১ ডলারের ভ্রমণ ব্যয়ের অর্থ ফেরত চাওয়ার অভিযোগের বিষয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি। এসব অভিযোগের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সায়মা দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ ও ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন সায়মা ওয়াজেদ। সংস্থাটির নির্ধারিত মনোনয়ন ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তিনি ওই পদে আসেন।
পরবর্তী সময়ে আর্থিক অনিয়ম, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং বাংলাদেশে জমি বরাদ্দসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ ঘিরে তার দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এসব অভিযোগের তদন্ত চলাকালে তাকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি পদত্যাগ করেন। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন সায়মা।
এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর ভারতের সংবাদমাধ্যম ফার্স্টপোস্টে প্রকাশিত আরেকটি মতামতধর্মী লেখায়ও ডব্লিউএইচওর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। ‘হোয়েন পলিটিকস ওভারটেকস ডিউ প্রসেস: মাই ইয়ার অব প্রফেশনাল এক্সাইল অ্যাট ডব্লিউএইচও’ শিরোনামের ওই লেখায় তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক চাপের মুখে সংস্থাটির নেতৃত্ব তার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারেনি।
সর্বশেষ লেখায় আগের অভিযোগগুলো আবারও তুলে ধরার পাশাপাশি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের পক্ষে নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন সায়মা। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সমালোচনাও করেছেন তিনি।
ডব্লিউএইচওর দায়িত্ব ছেড়ে দিলেও মানসিক স্বাস্থ্য এবং স্নায়ুবিকাশজনিত সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের অধিকার নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন সায়মা ওয়াজেদ।

মন্তব্য করুন