কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কক্সবাজার থেকে আটক রিয়াজ উদ্দিন রাজু ওরফে রাজু চৌধুরীকে (২০) শেষ পর্যন্ত নিজেদের হেফাজতে নেয়নি কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্য যাচাইয়ে এ হত্যা মামলায় রাজুর সরাসরি সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।

সোমবার সকালে রাজুকে হেফাজতে নিতে কক্সবাজারে যায় কুমিল্লা ডিবির একটি তদন্তকারী দল। কক্সবাজার সদর থানা থেকে তাকে বের করে ডিবির গাড়িতে তুলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাকে সঙ্গে না নিয়ে আবার কক্সবাজার সদর থানায় রেখেই ফিরে আসে দলটি।

সোমবার রাত ৯টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও পুলিশের মিডিয়া বিভাগের মুখপাত্র মো. লুৎফর রহমান।

এর আগে রোববার রাতে তাজমিন হত্যা মামলায় জড়িত সন্দেহে কক্সবাজারের কলাতলী বিচ এলাকা থেকে রাজুকে আটক করে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ। পরদিন সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) পবিত্র সরকারের নেতৃত্বে একটি দল তাকে হেফাজতে নিতে কক্সবাজারে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, কক্সবাজার সদর থানা থেকে রাজুকে বের করে ডিবি পুলিশের একটি গাড়িতে তোলা হয়েছিল। এ সময় তাকে গ্রহণের পর পুলিশ সদস্যদের ছবি তুলতেও দেখা যায়। তবে পরে তাকে কুমিল্লায় না নিয়ে কক্সবাজার সদর থানায় রেখেই ডিবি সদস্যরা ফিরে যান।

রাজুকে হস্তান্তরের জন্য কুমিল্লা ডিবির পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছিল, তাজমিনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের কললিস্ট ও প্রযুক্তিগত তথ্য পর্যালোচনা করে ঘটনার প্রায় দুই দিন আগে কক্সবাজার সদর থানা এলাকায় তার অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায়। ওই সময় রাজুর সঙ্গে তাজমিনের দেখা হয়েছিল এবং ঘটনার আগে তাদের মধ্যে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগও হয়েছিল বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

এ কারণে তাজমিনের সঙ্গে রাজুর পূর্বপরিচয়, তাদের যোগাযোগের কারণ এবং ডিজিটাল মাধ্যমে পাওয়া তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছিল ডিবি। পাশাপাশি মামলার বিষয়ে রাজুর কাছে গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য আছে কি না, তা জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলা হয়েছিল।

তবে সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই-বাছাই ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে হেফাজতে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কুমিল্লা ডিবি। কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, তাজমিন হত্যা মামলায় রাজুর সরাসরি কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। এ কারণেই তাকে কুমিল্লা ডিবির হেফাজতে নেওয়া হয়নি।