রাজধানীর ব্যস্ত ধানমন্ডির ফুটপাতে এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনায় সমালোচনার ঝড়ের মধ্যেই নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। ঘটনায় জড়িত অভিযুক্ত যুবককে আটক করেছে পুলিশ, আর ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে নীরব ভূমিকা পালন করা এক পুলিশ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বুধবার দুপুরে অভিযুক্ত খালিদ হাসান (৩৫) কে আটক করা হয়। একই সাথে কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে ধানমন্ডি থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক আবদুল হাইকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত গত সোমবার। অভিযোগ ওঠে, ধানমন্ডি এলাকায় এক তরুণীকে (২৩) উত্ত্যক্ত করেন শহীদ আবদুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি। এই অভিযোগের জেরে ফুটপাতেই তাকে ঘিরে ধরেন খালিদ হাসান। চড়-থাপ্পড়, লাথি মারা এবং কান ধরে ওঠবস করানোর মতো ঘটনা ঘটান তিনি।
এই পুরো ঘটনার একটি ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। ঘটনার ন্যায়-অন্যায় নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা চললেও সবকিছুকে ছাপিয়ে যায় আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ।
তবে আলোচনার মোড় ঘুরে যায় ভিডিওর আরেকটি অংশে। সেখানে দেখা যায়, মারধরের ঘটনা যখন চলছে, তখন থেকে মাত্র কয়েক হাত দূরে পুলিশের দুই সদস্য দাঁড়িয়ে আছেন। তারা কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে পথচারীদের মতোই ঘটনা প্রত্যক্ষ করছিলেন। এই দৃশ্য সামনে আসার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ফুটপাতে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনায় খালিদ হাসানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকেও দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ায় এএসআই আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মূল অভিযোগ অর্থাৎ তরুণীকে হয়রানির ঘটনাটিও তদন্তাধীন রয়েছে।

মন্তব্য করুন