গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তিনি বলেছেন, গণরায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান না নিয়ে সরকারকে জনগণের পক্ষে দাঁড়াতে হবে। একই সঙ্গে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও মাস্তানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের নাবিস্কো মোড়ে ১১-দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত গণসংযোগ ও প্রচারপত্র বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সেলিম উদ্দিন। আগামী শনিবারের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করার লক্ষ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদপ্রার্থী সেলিম উদ্দিন বলেন, বিদ্যুৎ, সার, গ্যাসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছে। তার অভিযোগ, ক্ষমতায় এসে জনগণের স্বার্থ রক্ষার পরিবর্তে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে ক্ষমতাসীনরা। অতীতে দলীয়করণ থাকলেও মাত্র আট মাসে পরিস্থিতির যে পরিবর্তন হয়েছে, তা দেশের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
তিনি আরও বলেন, যে দল নিজেদের নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তাদের পক্ষে দেশ পরিচালনা করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দেশে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও মাস্তানি কোনোভাবেই চলতে দেওয়া যাবে না। এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
লংমার্চের পর জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়ে সেলিম উদ্দিন বলেন, জনগণের অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় মানুষ প্রস্তুতি নিচ্ছে। দ্রুত গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের পাশাপাশি দেশে জনগণের শাসন নিশ্চিত করতে হবে।
হাসপাতালে হামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যকে সরিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে দায় শেষ করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অন্যদিকে জনগণের সমস্যার কথা বলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে মিথ্যা মামলায় আটক রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সেলিম উদ্দিন। তিনি অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করেন এবং মুক্তি দেওয়া না হলে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে তা আদায়ের হুঁশিয়ারি দেন।
সরকারের প্রতি আবারও আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। পাশাপাশি ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চে সর্বস্তরের মানুষকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তেজগাঁও উত্তর থানা আমির ও ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের আহসান উল্লাহর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য হেমায়েত হোসেন ও আতাউর রহমান সরকার। এ ছাড়া বক্তব্য দেন মহানগরী মজলিসে শূরা সদস্য অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান, কলিম উল্লাহ ও নাসিফুল হক নাসিফসহ অন্যরা।

মন্তব্য করুন