কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের মরদেহ ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে মরদেহগুলো পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে এ ঘটনায় নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার সন্ধান এখনো মেলেনি।

গত ১৭ অক্টোবর সকালে উখিয়ার পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যাতে ১০ জনের মৃত্যু হয়। আগুনে মরদেহগুলো পুড়ে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মরদেহের নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষা করে এবং স্বজনদের নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে মরদেহগুলো পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় স্বজনদের আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়।

মরদেহ শনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমন ঘোষ জানান, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মঙ্গলবার তাদের মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।

নিহত ১০ জনের মধ্যে ঢাকার দুটি পরিবারের সদস্য রয়েছেন। একটি পরিবারের চারজন এবং অন্য পরিবারের ছয়জন সদস্য এ ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকার শ্যামলীর গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাহিদুর রহমান (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন (৩৬) এবং তাদের দুই মেয়ে রোজাইনা ইনায়া (৯) ও মুনাইনা ইহানা (৬)।

অন্য পরিবারের নিহত সদস্যরা হলেন মৌলিতা মেহজাবিন আলভি (১৯), তার কাজিন লায়লা জাহান নাবিলা (২৫), ইসরাত জাহান মালিহা (২৭), আরেক কাজিন ফারিয়া কবির (৩৩), ফারিয়ার ছয় বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ ফাইজান নূর এবং ফারিয়ার ভাই মোহাম্মদ নাফিস তেহামি (২৪)।

তারা ঢাকার বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকায় বসবাস করতেন। নিহত নাফিস তেহামি ‘জেরিফ’ নামেও পরিচিত ছিলেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। মৌলিতা মেহজাবিন আলভি ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে পপুলেশন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ সায়েন্সেস বিষয়ে পড়াশোনা করতেন এবং লায়লা জাহান নাবিলা ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী।

মরদেহ শনাক্ত ও হস্তান্তরের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে স্বজনদের। শোকাহত পরিবারের সদস্যরা পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে আর কোনো পর্যটককে এমন মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হতে হবে না।

এদিকে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উখিয়া থানার পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। তবে মামলায় জামিনযোগ্য ধারা যুক্ত করা এবং রিসোর্ট মালিকপক্ষের কয়েকজনকে আসামি না করার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি আদালতেরও নজরে এসেছে।

পুলিশের কারও বিরুদ্ধে অবহেলা বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান।

অন্যদিকে, অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাভারের স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার মরদেহ ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্ত না হওয়ায় মঙ্গলবার সকাল থেকে রিসোর্টের ধ্বংসাবশেষে আবারও তল্লাশি চালায় পুলিশ। পরে দুপুরের দিকে একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের গলায় থাকা চেইন দেখে সেটি শিক্ষিকা মুক্তার বলে শনাক্ত করেন তার স্বামী ফয়সাল। তবে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি এখনো জানা যায়নি।