শেরপুর সদর উপজেলায় বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া (৪১) নামে এক প্রবাসফেরত যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন। তাঁদের মধ্যে নকলা পৌরসভার হিসাবরক্ষক ও হিসাব সহকারী রয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে শেরপুর-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কের ভাতশালা ইউনিয়নের হাওড়া জোড়াপাম্প এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত জুয়েল মিয়া নকলা উপজেলার বারমাইসা খিচা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের মো. হাফিজ উদ্দিনের ছেলে। দুই সন্তানের জনক জুয়েল ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে প্রবাসী ছিলেন।

দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা হলেন নকলা পৌরসভার হিসাবরক্ষক মোহাম্মদ ফেরদৌসুর রহমান (৫০), হিসাব সহকারী আলমগীর হোসেন (৩২), শফিকুল ইসলাম (৪৫) ও দুলাল মিয়া (৬০)। ফেরদৌসুর রহমানকে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আলমগীর হোসেন নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। অন্যদিকে শফিকুল ইসলাম ও দুলাল মিয়া শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে ঢাকা থেকে শেরপুরগামী শেরপুর চেম্বার্স অব কমার্সের একটি বাস নকলাগামী সিএনজিচালিত অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশার যাত্রী জুয়েল ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে আহত চারজনকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়।

জুয়েলের চাচাতো ভাই এরশাদ আলী জানান, প্রায় ১৪ বছর ধরে ইরাকে প্রবাসী ছিলেন জুয়েল। ২০ দিন আগে তিনি দেশে ফেরেন। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ছেলে তাঁর সঙ্গে ইরাকে থাকে। মঙ্গলবার বিকেলে কাজের প্রয়োজনে শেরপুরে এসে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।

নকলা পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুল হাসান বলেন, পৌরসভার হিসাবরক্ষক ও হিসাব সহকারীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি শেরপুরে এসেছিলেন। পরদিন বদলিজনিত কারণে বিদায় নিতে যাওয়া তিন কর্মকর্তার জন্য উপহার কিনতে তাঁরা সেখানে যান। কাজ শেষে তিনি বাসায় ফিরে গেলেও পরে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আহত ফেরদৌসুর রহমানের জন্য দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করেন।

শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোকন চন্দ্র ঘোষ জানান, রাত ৯টার দিকে হাওড়া বাড়ি এলাকায় মমিন মেম্বারের বাড়ির সামনে দুর্ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একজনকে মৃত অবস্থায় পায়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।