ঢাকার প্রথম ভূগর্ভস্থ মেট্রোরেল প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্যাকেজের নকশা ও নির্মাণকাজের চুক্তি পেয়েছে ভারতের অবকাঠামো নির্মাণ প্রতিষ্ঠান লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (এলঅ্যান্ডটি)। চুক্তির আওতায় রেললাইন স্থাপন, বিদ্যুৎ সরবরাহ, সংকেতব্যবস্থা, টেলিযোগাযোগ ও প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর স্থাপনের কাজ করবে প্রতিষ্ঠানটি।

চ্যানেল ২৪-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের মেট্রোরেল লাইন-১-এর আওতায় এই চুক্তি হয়েছে। ভারতীয় মুদ্রায় এর সম্মিলিত মূল্য ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি।

চুক্তির দুটি প্যাকেজের মধ্যে সিপি০৯-এর আওতায় রেললাইন স্থাপন এবং বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার নকশা, সরঞ্জাম সংগ্রহ, স্থাপন, পরীক্ষা ও চালুর কাজ করা হবে। এ কাজে এলঅ্যান্ডটির সঙ্গে যুক্ত থাকবে জাপানি প্রতিষ্ঠান সুমিতোমো করপোরেশন। পুরো রুটে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থা, ট্র্যাকশন সাবস্টেশন এবং ওভারহেড ক্যাটেনারি ব্যবস্থাও এই প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে, সিপি১০ প্যাকেজের আওতায় মেট্রোরেল নেটওয়ার্কে সংকেতব্যবস্থা, টেলিযোগাযোগ এবং প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর স্থাপন করবে এলঅ্যান্ডটি। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, প্যাকেজ দুটি লাইন-১-এর মূল পরিচালনব্যবস্থা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন মেট্রোরেল লাইন-১-এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩১ কিলোমিটার। প্রকল্পটিতে দুটি রুট রয়েছে। এর একটি কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এবং অন্যটি নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল টার্মিনাল পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রকল্পে মোট ১৯টি স্টেশন ও পিতলগঞ্জে একটি ডিপো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে ঢাকার প্রথম মেট্রোরেল করিডর লাইন-৬-এর সমন্বিত রেলব্যবস্থা স্থাপনের কাজও পেয়েছিল এলঅ্যান্ডটি। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ওই প্রকল্পের বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক ব্যবস্থার কাজ নির্ধারিত মান বজায় রেখে সম্পন্ন করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের।

এলঅ্যান্ডটির পরিবহন অবকাঠামো বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান রামকুমার এস বলেন, ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে নতুন করে কাজের চুক্তি পাওয়া বৃহৎ নগর পরিবহন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতার প্রতিফলন।

এদিকে, রাজধানীতে পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার। এসব প্রকল্পে সম্ভাব্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা।