স্বামীর জীবন রক্ষায় নিজের একটি কিডনি দান করেছেন ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার হালিমা বেগম। তাঁর স্বামী কবির মীরের শরীরে সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে এই দম্পতি দুজনেই সুস্থ আছেন এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
কবির মীর ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচড়া ইউনিয়নের বাথানবাড়ি গ্রামের দেলোয়ার মীরের বড় ছেলে। তাঁদের সংসারে রয়েছে দুটি সন্তান।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত জুন মাসে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন কবির। চিকিৎসকের পরামর্শে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর দুটি কিডনিই অকার্যকর হয়ে পড়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। এ অবস্থায় তাঁর জীবন রক্ষায় দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান চিকিৎসকেরা।
এরপর কবিরের জন্য কিডনিদাতা খুঁজতে শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা। নানা চেষ্টা করেও দাতা না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত স্বামীর পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন হালিমা। নিজের একটি কিডনি দান করে স্বামীকে বাঁচানোর উদ্যোগ নেন তিনি।
কবিরের ছোট ভাই রিয়াজ মীর জানান, কয়েক মাস ধরে তাঁর ভাই রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন।
সেখানে সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে কিডনি প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার করা হয়। বিশিষ্ট কিডনি প্রতিস্থাপন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে হালিমার একটি কিডনি তাঁর স্বামী কবির মীরের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে বলে জানা গেছে।
চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থাকা এই দম্পতির শারীরিক অবস্থা বর্তমানে ভালো। স্বামীর জীবন বাঁচাতে হালিমার এই সিদ্ধান্ত তাঁদের পরিবারের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের মধ্যেও প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

মন্তব্য করুন